জীবন তরীতে সুখের ছোঁয়া
ভাঙা আর গড়ার মধ্যদিয়েই আঁকা চরবাটিয়া, শালুকা, কুলিপাড়া, পাখিমারাসহ কয়েকটি গ্রামের মানুষের জীবন চিত্র। কখনও নদীভাঙন, কখনও বন্যা আবার কখনও বা ঘূর্ণিঝড়। বেঁচে থাকার জন্য প্রতিনিয়ত জীবন যুদ্ধে লড়াই করতে হয় এসব এলাকার মানুষের। প্রাকৃতিক দূর্যোগই যেন তাদের নিত্যদিনের সঙ্গী। বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলা সদর থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে এসব চরাঞ্চল।
বর্ষায় যখন যমুনা নদী তার যৌবন ফিরে পায় তখন যেন ফুলে ফেপে আরো ভয়াবহ হয়ে ওঠে এসব চর। দূর্গম এসব অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মানও অত্যন্ত নিম্নমানের। দুস্থ, দারিদ্র্য, অসহায়, শিক্ষা ও চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত এসব চরের মানুষরা।
চরবেষ্টিত এসব মানুষদের সেবা দিতে কাজ করছে ভাসমান হাসপাতাল ‘জীবন তরী’। বেসরকারি সংস্থা ‘লাইফবয় ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল’ এটি। গত তিনমাস আগে চরবাটিয়া চরে নোঙর করে চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছে। ভাসমান এ হাসপাতালে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সেবা দেয়া হয়। এখানে পুরুষরা ১০ টাকা, নারীরা ৫ টাকা ও শিশুরা ৩ টাকায় চিকিৎসার সুযোগ পাচ্ছেন।

শুধু চরাঞ্চলের মানুষই নয়। বিভিন্ন স্থান থেকে সব শ্রেণির মানুষরা চিকিৎসা নেয়ার জন্য এ হাসপাতালে আসছেন। সারিয়াকান্দি তীর থেকে ‘জীবন তরী’ হাসপাতালে নৌকা করে যেতে হয়। সেখানে আসা-যাওয়ার ভাড়া আবার ২০ টাকা। কিছু সময় পর পর সেখানে নৌকা যায়।
ভাসমান হাসপাতালের মাধ্যমে দূর্গম এসব এলাকার মানুষ চিকিৎসাসেবা পেয়ে খুবই উপকৃত হচ্ছেন। কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে তাদের মধ্যে। তবে এ সুখ ক্ষণস্থায়ী। কিছুদিনের মধ্যে এ ‘জীবন তরী’ অন্যত্র চলে যাবে।
হাট ফুলবাড়ী থেকে চিকিৎসা নিতে আসা পারভিন আক্তার বলেন, মাত্র ৫ টাকা দিয়ে চিকিৎসা নিয়েছি। পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হলেই এখানে সেটা করা হচ্ছে। ৫ টাকা দিয়ে এতো ভালো চিকিৎসা পাব সেটা আশাই করিনি।

ফ্রেন্ডশিপ লাইফবয় হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবুল বাসার বলেন, ফ্রেন্ডশিপ একটি অর্গানাইজেশন ও অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। চর এলাকার দুস্থ, দারিদ্র্য, গরিব ও অসহায়দের স্বাস্থ্যসেবা দেয়া মূলত আমাদের কাজ। দুইজন এমবিবিএস ও প্যারামেডিকেলের ডাক্তার দিয়ে বিশেষ করে চোখ, দাঁত ও সাধারণ চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। প্রতিদিন প্রায় ১৫০ জনের অধিক মানুষ চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন। এদের মধ্যে নারী ও শিশুদের সংখ্যাই বেশি। ওষুধপত্র কিছুটা এখান থেকে দেয়া হয় এবং বাকিটা রোগীরা বাইরে থেকে কেনেন।
আব্বাস আলী/এফএ/আরআইপি