ধানের পাতা পোড়া রোগে দিশেহারা কৃষক

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নওগাঁ
প্রকাশিত: ০৬:২২ পিএম, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮

নওগাঁর রাণীনগরে আমন ধানে অনু খাদ্যের অভাবে ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ দেখা দিয়েছে। এতে ধানের পাতা হলুদ হয়ে পুড়ে শতশত বিঘা জমির ধান মরে যাচ্ছে। বিভিন্ন কোম্পানির ওষুধ প্রয়োগ করেও কোনো কাজ হচ্ছে না। কৃষি বিভাগের পরামর্শেও রক্ষা করা যাচ্ছে না ধান। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে রানীনগর উপজেলায় ১৫ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ করা হয়েছে। ধানের মধ্যে রয়েছে বিনা সেভেন, বিআর-৪৯, বিআর-৫১, বিআর-৫২ ও আতব ধানসহ বিভিন্ন প্রজাতের। ১৫ দিন আগে হঠাৎ করে উপজেলার রাণীনগর সদর, পারইল, কালীগ্রাম, আবাদপুকুর, বেলঘড়িয়া, সিলমাদার, করজগ্রাম, ভেটি, দামুয়া, নারায়ণ বড়গাছা ও একডালাসহ কয়েকটি গ্রামের শত শত বিঘা জমির ধান এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে। পাতা হলুদ হওয়া দেখা দেয়ার ৫ থেকে ৮ দিনের মধ্যে জমির সমস্ত ধান মরে যাচ্ছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন জমিতে এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। আক্রান্ত ধানগুলো স্বর্ণা, বিআর-৪৯ এবং কাটারি ভোগ জাতের।

কৃষকদের আয়ের উৎস্যই একমাত্র ধান। সেই ধানে পাতা পোড়া রোগ দেখা দেয়ায় কৃষকরা তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। ধান মরে যাওয়ায় আবারও আক্রান্ত জমিতে নতুন করে ধান লাগানো হচ্ছে। এতে তাদের বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে।

Naogaon-Paddy

আমগ্রামের কৃষক আব্দুর গফুর বলেন, প্রায় ৪ বিঘা জমির ধান পাতা পোড়া রোগে আক্রান্ত হয়েছে। কোন ওষুধ প্রয়োগ করে ফল হচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়ে নতুন করে রোপণ করতে হয়েছে। আর নতুন করে ধান রোপন করায় বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে।

দামুয়া গ্রামের কৃষক আফছার আলী বলেন, প্রথমে ধানের পাতা হলুদ হয়ে যাচ্ছে। এরপর ৫-৭ দিনের মধ্যে সম্পন্ন আক্রান্ত হয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। প্রায় সাড়ে ৩ বিঘা জমির ধান নষ্ট হয়ে গেছে। পাশের জমিতে যেসব ভালো ধান ছিল সেগুলোও আক্রান্ত হচ্ছে। কৃষি বিভাগ পরামর্শ দিলেও ওষুধ প্রয়োগ করে কোনো সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছি আমরা।

রাণীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, এলাকার নিচু জমিতে এ রোগ দেখা দিয়েছে। অনু খাদ্যের অভাবে এ রোগটি হচ্ছে। তবে আমরা কৃষকদের প্রতি বিঘাতে ৮ থেকে ১০ কেজি ইউরিয়া এবং পটাশ সার দেয়ার পরামর্শ দিচ্ছি। ফসল রক্ষার্থে আমরা কৃষকদের সার্বিকভাবে সহযোগিতা ও পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।

আব্বাস আলী/আরএআর/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :