জাতীয় দলে খেলতে চায় ফেনীর দুই ফুটবল কন্যা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি ফেনী
প্রকাশিত: ১০:৪০ এএম, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ফুলবলে নৈপুণ্য দেখিয়ে হাজারো মানুষের মন জয় করেছে দুই বোন সাহিদা আক্তার (১৫) ও সাদিয়া আক্তার (১৪)। গ্রীষ্মকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্বের মুকুটও এনে দিয়েছে নিজ বিদ্যাপিঠ ছাগলানাইয়া পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়কে। দুই বোনের নৈপুন্যেই দলটি বিভাগীয় পর্যায়ে খেলার টিকিট পায়।

এ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির (ভোকেশনাল) ছাত্রী সাহিদা আক্তার। ছোটবেলা থেকেই ফুটবলের প্রতি প্রচণ্ড ঝোঁক তার। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াকালীন বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা ফুটবল টুর্নামেন্টে একাধিকবার অংশ নিয়ে শ্রেষ্ঠ খেলোয়াড়সহ বিভিন্ন পুরস্কার রয়েছে তার ঝুলিতে। তার প্রতিষ্ঠান পূর্ব বাঁশপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কেও একাধিকবার এনে দিয়েছে শ্রেষ্ঠত্বের সম্মান।

তারই ছোট বোন সাদিয়া আক্তার (১৪) পড়ে একই বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণিতে। বড় বোনের সঙ্গে ফুটবলে মজেছে সেও। প্রাথমিকের গণ্ডি পেরুলেও ফুটবল যেন পিছু ছাড়ে না। সব টুর্নামেন্টে বোনের সঙ্গে ডাক পড়ে তারও। মাঝ মাঠে খেলে দলকে জিতিয়ে দেয়াই যেন তার কাজ।

Feni

সাহিদা আক্তার ও সাদিয়া আক্তারের বাবা মোহাম্মদ ইব্রাহিম একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। পৌরশহরে জমদ্দার বাজারে ফল বিক্রি করেন ইব্রাহিম। মেয়েদের সফলতায় মুগ্ধ তিনি। স্বপ্ন দেখেন তার মেয়েরা একদিন দেশসেরা হয়ে এলাকায় সুনাম ছড়াবে।

সাহিদা আক্তার জাগো নিউজকে বলে, ক্রীড়া শিক্ষক সালমা আক্তার ও সহকারী শিক্ষক (কারিগরি) নাসির উদ্দিন স্যার আমাদের সব সময় উৎসাহ-উদ্দিপনা দিয়ে থাকেন। উনাদের তত্ত্বাবধান ও সহযোগিতায় এ পর্যায়ে আসতে পেরেছি।

সাহিদা আরো জানায়, ছোটবেলা থেকেই তার স্বপ্ন জাতীয় দলে খেলার। সবার সহযোগিতা পেলে সে জাতীয় দলের হয়ে খেলে দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনতে পারবে বলে বিশ্বাস তার।

একই স্বপ্ন দেখে ছোট বোন সাদিয়া আক্তার। জাতীয় দলের হয়ে খেলে দুই বোন দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে।

Feni

সাদিয়া জানায়, স্যারদের সহযোগিতায় আমরা জেলা মহিলা ফুটবল দলের সদস্য হয়েছি। আমরা স্যারদের ও এলাকার সম্মান রক্ষার্থে আপ্রাণ চেষ্টা করবো।

বিদ্যালয়ের ক্রীড়া শিক্ষক সালমা আক্তার বলেন, দুই ফুলবল কন্যাকে পেয়ে আমরা গর্বিত। সাহিদা ও সাদিয়া পুরো টিমের নেতৃত্ব দিয়ে বিদ্যালয়ের পক্ষে একাধিকবার জয় ছিনিয়ে এনেছে। তাদের ক্রীড়া নৈপুন্যে আমি মুগ্ধ। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে ওরা জাতীয় পর্যায়ে সুনাম আনতে পারবে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল বশর বলেন, সাহিদা ও সাদিয়া আমার স্কুলের গর্ব। আমি চাই তারা শুধু আমার স্কুল নয় গোটা দেশের হয়ে খেলুক।

এফএ/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :