শেখ রাসেল সেতু রক্ষার দাবিতে গড়াই নদীর পাড়ে হাজারো মানুষ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কুষ্টিয়া
প্রকাশিত: ০৬:৫৩ পিএম, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮

গড়াই নদীর ওপর নির্মিত কুষ্টিয়া-হরিপুর শেখ রাসেল সেতু রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেছেন নদী পাড়ের মানুষজন। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদ ও নদী ভাঙন প্রতিরোধ সংগ্রাম কমিটির আয়োজনে নদী পাড়ে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। মানববন্ধন শেষে সেতুর নিচে সংবাদ সম্মেলন করা হয়।

এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নদী ভাঙন প্রতিরোধ সংগ্রাম কমিটির সদস্য সচিব সাংবাদিক হাসান আলী। এ সময় হাটশ হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শম্পা মাহমুদ, জেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি সাহাবুব আলী, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অসিত সিংহ রায়, সাংস্কৃতিক কর্মী অ্যাডভোকেট লালিম হক ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মিলন মন্ডল উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলন থেকে অবিলম্বে সেতু রক্ষায় সংশ্লিষ্ট দফতর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে কুষ্টিয়া থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগকে উচ্ছেদের ঘোষণা দেন নদী ভাঙন প্রতিরোধ সংগ্রাম কমিটির নেতৃবৃন্দ।

নদী ভাঙন প্রতিরোধ সংগ্রাম কমিটির দাবি- অসম্পূর্ণ ডিজাইনে নির্মিত হওয়ায় নির্মাণের কয়েক মাসের মধ্যে গড়াই নদীর বাম তীর ভেঙে গেছে। সেতুর উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় হরিপুর ইউনিয়নের ২নং হাটশ হরিপুর ওয়ার্ডের প্রায় দেড় হাজার পরিবারের বসতভিটাসহ গোটা জনপদের মসজিদ, মাদরাসা, সরকারি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাড়াও রাস্তা-ঘাট নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

kustia02

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যায় সৃষ্ট ভাঙনে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত সেতুর হরিপুর অংশের পশ্চিম পাশের প্রায় ২শ মিটার নদীর তীর সংরক্ষণ বাঁধ ভেঙে শেখ রাসেল সেতুর প্রটেকশন বাঁধে ঢুকে পড়ে। এতে এক রাতেই সেতু সংরক্ষণে নির্মিত সিসি ওয়ার্ক বাধের প্রায় ৩০ মিটার নদী গর্ভে তলিয়ে যায়। এদিকে ভাঙন রোধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে ঠেলাঠেলি শুরু করে সরকারি দুই প্রতিষ্ঠান।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ বলছে, সেতুটি ঝুঁকিতে পড়লেও তাদের আর কিছু করার নেই। নদী ভাঙনের বিষয়টি এখন দেখার দায়িত্ব পানি উন্নয়ন বোর্ডের।

আর পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, ব্রিজের প্রটেকটিভ এরিয়ায় ভাঙন হলে সেটা দেখবেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ। শুধু সেতুর সংরক্ষণ বাধ নয়, ভাঙন দেখা দিয়েছে গড়াই নদীর বাম তীর সংরক্ষণ বাঁধেও।

কুষ্টিয়া স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালে গড়াই নদীর ওপর নির্মিত কুষ্টিয়া-হরিপুর শেখ রাসেল সেতুর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণের টেন্ডার আহ্বান করা হয়। ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সেতুর দুই পাড়ে সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণের কার্যাদেশ পান ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মীর আক্তার গ্রুপ। এরমধ্যে কুষ্টিয়া অংশে ১৯০ মিটার এবং হরিপুর অংশে ২৫০ মিটার সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণ করা হয়। ২০১৭ সালের এপ্রিল মাসে কাজ শেষ করে হস্তান্তর করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।

সদর উপজেলার ১নং হাটশ হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শম্পা মাহমুদ বলেন, বিষয়টি বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কুষ্টিয়ার কর্মকর্তাদের জানিয়ে প্রয়োজনী ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু তারা কোনো উদ্যোগ গ্রহণ না করায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড কুষ্টিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান জানান, এ ব্যাপারে খুব শিগগিরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে নির্দিষ্ট করে তার কাছ থেকে কোনো বক্তব্যে পাওয়া যায়নি।

আল-মামুন সাগর/আরএআর/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :