ফেনীর ১৪২টি পূজামণ্ডপে চলছে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ফেনী
প্রকাশিত: ০৮:০৯ পিএম, ০১ অক্টোবর ২০১৮

কদিন পরেই হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। এ উপলক্ষ্যে জেলা শহরসহ উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের পূজামণ্ডপগুলোতে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। প্রতিমা নির্মাণ ও মন্দির সাজসজ্জায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কারিগরসহ স্থানীয়রা।

পূজা উদযাপন পরিষদ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফেনীতে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ পুণ্যার্থী জেলার ১৪২টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব পালন করবেন। এবার ফেনীতে ১টি পূজামণ্ডপ বেড়েছে। গত বছর ১৪১টি পূজামণ্ডপে পূজা উদযাপন হয়। কিন্তু এবার ১৪২টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব পালিত হবে। এর মধ্যে ফেনী পৌর সভায় ১২টি, ফেনী সদর উপজেলায় ৪৪টি, ফুলগাজীতে ৩৪টি, পরশুরামে ৬টি, দাগনভূঞাতে ১৭টি, ছাগলনাইয়ায় ৬টি ও সোনাগাজীর ২৩টি পূজামণ্ডপে দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি মোটামুটি শেষ পর্যায়ে।

ফেনী জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট সমির চন্দ্র কর জাগো নিউজকে জানান, আগামী ১৪ অক্টোবর থেকে ১৯ অক্টোবর ছয় দিনব্যাপী এ উৎসবে নিরবচ্ছিন্ন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেবে স্থানীয় প্রশাসন। এ নিয়ে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে একাধিকবার পূজা উদযাপন পরিষদ নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। উৎসবের প্রথম দিন দেবীর আগমন বোধন ষষ্ঠী পূজা, দ্বিতীয় দিন মহাসপ্তমী, তৃতীয় দিন মহাঅষ্টমী, চতুর্থ দিন মহানবমী ও সন্ধী পূজা এবং শেষ দিন প্রতীমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দশমী বিহীত পূজা উদযাপিত হবে।

শহরের জগন্নাথ বাড়ি কমপেক্স, গুরুচক্র মন্দির, কালী বাড়ি মন্দির ঘুরে দেখা গেছে, এখানকার মণ্ডপগুলোর প্রতিমা নির্মাণ ও সাজ-সজ্জার কাজ শেষ পর্যায়ে। জগন্নাথ বাড়ি কমপেক্স, গুরুচক্র মন্দির, কালী বাড়ি মন্দির ছাড়াও রামকৃষ্ণ মিশন ও বাঁশপাড়া কোয়ার্টার, পরশুরামে সাতঞ্জী বাড়ি মন্দির, ফুলগাজীর জগন্নাথ বাড়ি মন্দির, দাগনভূঞার কেন্দ্রীয় মন্দিরের বেশি সংখ্যক পুন্যার্থীর আগমন ঘটে।

feni

সদর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক লিটন চন্দ্র সাহা বলেন, এ সব মন্দির ছাড়াও সবকটি পূজামণ্ডপে পুষ্পমাল্য ও বিলপত্রের মাধ্যমে পুষ্পাঞ্জলি, ধুপ ও কুশীর মাধ্যমে প্রতীমা আরতি, অষ্টমী ও নবমীতে অন্ন প্রসাদ ও পুরোহিত দ্বারা চন্ডিপাঠসহ নানা সংস্কৃতি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পূজা উদযাপন করা হয়।

বিগত প্রায় একমাস ধরে শিল্পীরা নান্দনিক ছোঁয়ায় প্রতীমা তৈরির কাজ করছেন। ফেনীতে প্রতীমা তৈরির শিল্পী না থাকায় কুমিল্লা, নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম থেকে শিল্পী এনে জেলার প্রতিটি পূজামণ্ডপে প্রতীমা তৈরি করা হয়। প্রতিটি পূজামণ্ডপে প্রতীমা নির্মাণে প্রকারভেদে ২০ হাজার থেকে লক্ষাধিক টাকা শিল্পীদের দিতে হয়।

জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শুক দেবনাথ তপন জাগো নিউজকে জানান, জেলা শহর ও নিকটবর্তী কয়েকটি মণ্ডপে এবার বড় আকারের বাজেট করে সাজ-সজ্জা ও প্রতিমা তৈরি করা হচ্ছে। এর মধ্যে কালীদহ ইউনিয়নের তুলা বাড়িয়া এলাকার বীনা পানি ক্লাব, শহরের বাঁশপাড়া মণ্ডপ, ট্রাংক রোডস্থ বড় কালী মন্দির, এসএসকে রোডস্থ জগন্নাথ বাড়ি মন্দির ও বারাহীপুর সার্বজনীন মন্দির অন্যতম।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি রাজীব খগেশ দত্ত জাগো নিউজকে জানান, শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি পুরোদমে চলছে। প্রতিটি পূজামণ্ডপে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

আরএআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।