টাকা ধার না দেয়ায় বাল্যবন্ধুকে গলা কেটে হত্যা করেন রাব্বী

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কুমিল্লা
প্রকাশিত: ০৯:২৭ পিএম, ০৩ অক্টোবর ২০১৮

কুমিল্লার গোমতী চরের অরণ্যপুর এলাকায় আজিরুল ইসলাম জুয়েল (২১) নামে এক যুবককে হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। নিহত জুয়েলের পকেটে থাকা একটি মোবাইল সিমের সূত্র ধরে তার পরিচয় শনাক্ত ও হত্যার রহস্য উদঘাটন করা হয়। টাকা ধার না দেয়ায় এবং মোবাইল ছিনিয়ে নিতে পরিকল্পিতভাবে জুয়েলকে তারই বাল্যবন্ধু রাব্বী গলা কেটে হত্যা করে।

বুধবার রাব্বী হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে কুমিল্লার ৩নং আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জালাল উদ্দিনের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন বলে ডিবি পুলিশ জানিয়েছে।

নিহত জুয়েল চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলার নাওপুরা গ্রামের ফারুক মিয়ার ছেলে। গ্রেফতার রাব্বী একই গ্রামের হুমায়ুন কবিরের ছেলে।

ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জুয়েল ও রাব্বী বাল্যবন্ধু ছিলেন। দুইজনই ইলেক্টনিক্সের কাজ করতেন। ঘটনার এক সপ্তাহ আগে নিহত জুয়েল সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজারের একটি ইলেক্ট্রনিক্সের দোকানে কাজ নেন। সেখানে গিয়ে তার বাল্যবন্ধু রাব্বী তার কাছে কিছু টাকা ধার চান। জুয়েল টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে রাব্বী তার জুয়েলের মোবাইল ছিনিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা মোতাবেক উভয়ই গত ২৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে গোমতী নদীর অরণ্যপুর এলাকায় ঘুরতে বের হন। সেখানে রাত হওয়ার পর অরণ্যপুর হরিনাচুর এলাকায় জুয়েলের মাথার পেছনে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন রাব্বী। একপর্যায়ে তার গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করে মরদেহ ফেলে মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যান তিনি। পরদিন কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ অজ্ঞাত পরিচয় হিসেবে জুয়েলের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে কুমিল্লার পুলিশ সুপার সৈয়দ মো. নুরুল ইসলামের নির্দেশে মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জেলা ডিবি পুলিশের এসআই পরিমল চন্দ্র দাস জানান, নিহতের পকেটে থাকা মোবাইল সিমের সূত্র ধরেই মামলার তদন্ত শুরু হয়। পরে এর মাধ্যমে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর প্রযুক্তির সহায়তায় ঘাতককে শনাক্ত করা হয়।

তিনি আরও জানান, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মঙ্গলবার দুপুরে ডিবির এসআই ইকতিয়ার উদ্দিন ফোর্স নিয়ে সদর উপজেলার নবগ্রামের ফুফুর বাড়ি থেকে ঘাতক রাব্বীকে গ্রেফতার করেন। হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে রাব্বী আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। তার দেয়া তথ্যে চুরি ও মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে।

জেলা ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির উদ্দিন মৃধা জানান, অর্থের জন্যই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। মামলাটি ডিবিতে আসার পর পুলিশ সুপারের দিক-নির্দেশনায় অধিক গুরুত্ব দিয়ে মামলাটি তদন্ত করা হয়। এতে অল্প সময়ের মধ্যেই এ হত্যার রহস্য উদঘাটন সম্ভব হয়েছে।

কামাল উদ্দিন/আরএআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।