উন্নয়ন মেলায় না জানা তথ্য জেনে অবাক হচ্ছেন সাধারণ মানুষ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নেত্রকোনা
প্রকাশিত: ০৪:৪৬ পিএম, ০৪ অক্টোবর ২০১৮

নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার কর্ণপুর গ্রামের তোফাজ্জল হোসেন। স্থায়ীভাবে এলাকায় বসবাস। একটা প্রাইভেট স্কুলের প্রিন্সিপাল তিনি। জেলা শহরে এসে মিউজিকের শব্দ শুনে এগোলেন। দেখলেন বাহারি আয়োজনের বিভিন্ন স্টল। পা বাড়ালেন একটি স্টলে। দেখলেন ওপরে লেখা পানি উন্নয়ন বোর্ড, নেত্রকোনা।

সামনে যেতে স্টল থেকে বেরিয়ে এলেন একজন। কিছু কাগজ হাতে ধরিয়ে দিলেন। তোফাজ্জল কাগজ দেখছেন। যে কাগজ দিয়েছেন তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আক্তারুজ্জামান।

ওই কাগজ পড়ে তোফাজ্জল জানলেন নেত্রকোনায় নদী আছে সাতটি। সোমেশ্বরী, ভোগাই কংশ, ধনু, পিয়াইন, মগড়া, গুমাই ও উপদাখালী। নদীগুলো মোট ৩৩৪ কিলোমিটার ছড়িয়ে আছে। আর নেত্রকোনায় মোট খাল আছে ১১৫টি। মোট দৈর্ঘ্য ৩৩৪৯.১৪ কিলোমিটার। সমৃদ্ধ তথ্য জেনে খুব খুশি তোফাজ্জল হোসেন।

ঠিক এভাবেই নেত্রকোনার উন্নয়ন মেলায় মোট ৮৭টি স্টল বসেছে। বিভিন্ন স্টলে শত শত লোকজন ঘুরছেন। তথ্য পাচ্ছেন। সমৃদ্ধ হচ্ছেন স্থানীয়রা এমন অভিমত তোফাজ্জলের।

পাশাপাশি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আক্তারুজ্জামান জানালেন, উন্নয়ন কাজ জনসাধারণের কাছে তুলে ধরতে চাই আমরা। জেলার উন্নয়ন প্রকল্পগুলো সরাসরি জনগণ জানতে পারলে দুর্নীতি কমবে। কাজের জবাবদিহিতা বাড়বে। কাজের স্বচ্ছতা আনতে এই মেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, এমডিজি অর্জনে সরকারের সাফল্য প্রচার ও এসডিজি বাস্তবায়নে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করাসহ সরকারি দফতরগুলোতে কী ধরনের সেবা প্রদান করা হয় তা জনগণের কাছে তুলে ধরতে নেত্রকোনায় তিন দিনব্যাপী উন্নয়ন মেলা শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে শহরের মোক্তারপাড়া এলাকায় পুরাতন কালেক্টর প্রাঙ্গণে এ মেলার আয়োজন করে জেলা প্রশাসন। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মেলার স্থান থেকে একটি শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের প্রধান সড়কগুলো ঘুরে একই স্থানে এসে শেষ হয়।

এতে সরকারি-বেসরকারি দফতর ছাড়াও নানা-শ্রেণিপেশার লোকজন অংশ নেন। সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মেলার উদ্বোধন করেন। পরে জেলা প্রশাসক মঈনউল ইসলামের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য দেন- যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রশান্ত কুমার রায়, পৌর মেয়র মো. নজরুল ইসলাম খান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. মতিয়র রহমান খান এবং সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি মো. আশরাফ আলী খান প্রমুখ।

মেলায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে রচনা প্রতিযোগিতা, কুইজ প্রতিযোগিতা ছাড়াও বিনোদনের ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন দফতরের ৮৭টি স্টল রয়েছে। এদিকে জেলার ১০টি উপজেলা পরিষদ চত্বরে একই উদ্দেশ্য ও কর্মসূচিতে মেলার আয়োজন করা হয়।

কামাল হোসাইন/এএম/এমএএস/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।