তবুও ধরা হচ্ছে ইলিশ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি পটুয়াখালী
প্রকাশিত: ১১:২২ এএম, ১৩ অক্টোবর ২০১৮

ইলিশের প্রজনন মৌসুমের ২২ দিন সরকার মাছ ধরা নিষিদ্ধ করলেও তা মানছেন না জেলেরা। দেশের নদ-নদীগুলোতে এই কয়েক দিন ইলিশ ধরা, পরিবহন, মজুত ও বিক্রি পুরোপুরি নিষিদ্ধ। এর ফলে একপ্রকার কর্মহীন হয়ে পড়েছেন উপকূলের জেলেরা। কর্মহীন এ সময়টাতে সরকার জেলেদের জন্য বিশেষ ভিজিএফএর ব্যবস্থা করলেও তা এখনও হাতে পাননি তারা। ফলে পেটের দায়েই নদীতে জাল ফেলছেন জেলেরা।

ইলিশ শিকারের পয়েন্ট মির্জাগঞ্জের পায়রার ভুতম্মা, আউয়াল কাটা পয়েন্ট, দুমকীর পায়রার পাঙ্গাসিয়া, বাউফলের তেঁতুলিয়া নদীর নিমদী, তালতলী, রায়সাহেব, মমিনপুর, বাদামতলী, নারাখালী, ডালিমা পয়েন্ট, দশমিনার তেতুলিয়া, গলাচিপার পাট্রির আগুন মোখা, বুরাগৌরাঙ্গ নদীর মোহনায় অধিকাংশ জেলেরা ইলিশ শিকার করছেন বলে জানা গেছে।

আর এসব মাছ কৌশলে গ্রামে গ্রামে কেনা-বেচা হচ্ছে। নদীর পাড়ে ধানখেতের পাশেই বসে অস্থায়ী ইলিশের হাট। মোবাইলেও মেলে ক্রেতা। মোবাইলে দালালের মাধ্যমে বিক্রি হয় এসব অবৈধ শিকার করা ইলিশ। বিকাশের মাধ্যমে অগ্রিম বুকিং দিতে হয় দালালের মোবাইল নম্বরে। এরপর সুযোগ মতো ক্রেতার হাতে সড়ক ও নৌ পথে কৌশলে পৌঁছে দেয়া হয় মাছ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা জানান, জেলে সংসারে এখন চরম সঙ্কট। সঙ্কট দূর করতে মাঝে মাঝে দিন ও রাতের আঁধারে নদীতে জাল ফেলছে জেলেরা।

মির্জাগঞ্জ এলাকার জেলে মোতাহার ও মোজাম্মেল হোসেন বলেন, ‘সরকার অবরোধ দিছে। তাই মাছ ধরা বন্ধ। আমরা এখন বেকার। সরকার আমাদের চালের ব্যবস্থা করলেও তা এখনও পানি।’

দশমিনার জেলে জাফর ও বাউফলের চন্দ্রদীপ এলকার জেলে আবদুল আজিজ জানান, এখন অধিকাংশের ঘরেই খাবার নেই। সরকারের উচিৎ চাল বিতরণ করা।

সরকারি হিসাবে পটুয়াখালী জেলায় ৬৯ হাজার ৬৬০ জন নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন। তবে এর বাইরেও এ জেলায় লক্ষাধিক মানুষ নদী ও সাগরে মাছ ধরার সঙ্গে জড়িত। অবরোধের সময় জেলার ৪৫ হাজার ৬৪২ জন জেলের জন্য ২০ কেজি করে ৯১২.৮৪ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করেছে সরকার।

জেলা মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, অবরোধে এ পর্যন্ত জেলায় ৬৪টি অভিযান, ৩৫টি মোবাইল কোর্ট, মামলা ৯টি, ১২০০ টাকা জরিমানা আদায়, এক জেলের কারাদণ্ড ও ২ লাখ ৩৩ হাজার ৬০০ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্ত মো. ইকবাল হোসেন জানান, দ্রুত সময়ের মধ্যে চাল বিতরণ কার্যক্রম চালু করা হবে। বরাদ্দকৃত চাল বিতরণে যেন কোনো প্রকার অনিয়ম না হয় তা তদারকি করা হবে।

মহিব্বুল্লাহ্ চৌধুরী/এফএ/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :