৩৮ বছরের বিরোধ মেটালেন সাবেক ও বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কুষ্টিয়া
প্রকাশিত: ১২:৪৩ পিএম, ১৩ অক্টোবর ২০১৮

কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারের আহ্বানে সাড়া দিয়ে সদর উপজেলার ঝাউদিয়া ইউনিয়নের সাবেক ও বর্তমান চেয়ারম্যান ও তাদের কর্মী-সমর্থকরা দেশি অস্ত্র জমা দিয়ে ৩৮ বছরের বিরোধ মেটালেন।

শুক্রবার ঝাউদিয়া বাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে এক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক চেয়ারম্যান বখতিয়ার হোসেন ও বর্তমান চেয়ারম্যান কেরামত আলীর সমর্থককরা এসব দেশি অস্ত্র জমা দেন। এসময় তারা আগামী দিনে আর কোনো সংঘর্ষে জড়াবে না বলে ওয়াদা করেন।

স্থানীয়রা জানান, এলাকার নিজেদের আধিপত্য ও নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে দীর্ঘ ৩৮ বছর ধরে দুই চেয়ারম্যানের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। এর জের ধরে প্রতি বছর দুই নেতার সমর্থকরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। তাদের দ্বন্দ্বে কারণে ঝরেছে নিরীহ কর্মীদের প্রাণ। গত কয়েক বছরে নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে ছয় জনের প্রাণ গেছে। এর আগে গত এক যুগে ঝাউদিয়া ইউনিয়নে বিভিন্ন সময় সংঘর্ষে কমপক্ষে ১০ জন নিহত হয়েছেন। লুটপাট ও ভাঙচুরের শিকার হয়ে বাড়ি-ঘর ছেড়ে অনেকেই অন্য এলাকায় গিয়ে বসবাস করছেন।

kustia1

এদিকে কুষ্টিয়ায় সদ্য যোগ দেয়া পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নিরসনের জন্য উদ্যোগ নেন। দুই নেতাকে ডেকে সব ভুলে এলাকার মানুষের উন্নয়নে কাজ করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি তাদের কাছে যেসব দেশিয় অস্ত্র আছে তা জমা দেয়ার অনুরোধ করেন। শুক্রবার ঝাউদিয়া বাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ উপলক্ষে এক সুধী সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

এতে পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আকতারুজ্জামান, শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা, ঝাউদিয়া বাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উত্তম কুমার এবং দুই নেতা বখতিয়ার হোসেন ও কেরামত আলী উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশে পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, অতীতে কী হয়েছে ভুলে যান। সামনের দিকে তাকান। আগামী দিনে এ ইউনিয়নে নিরীহ কোনো মানুষের রক্ত ঝরলে দুই নেতা দায়ী থাকবেন। আর এ জন্য তাদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। এখন থেকে দুই নেতা এলাকার মানুষের জন্য কাজ করবেন। কাউকে হয়রানির চেষ্টা করবেন না। করল পরিণতি ভয়াবহ হবে।

পরে দুই নেতা একে অন্যকে জড়িয়ে ধরে কোলকুলি করেন। আর ভ্যানে করে নিয়ে আসা বিপুল পরিমাণ দেশিয় অস্ত্র পুলিশ সুপারের কাছে জমা দেন। পরে অস্ত্রগুলো থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

আল-মামুন সাগর/আরএ/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :