মাঠ জুড়ে বোনা আমন
শরীয়তপুরে এবার বোনা আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষকরা এখন ধান কাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।
রোরো ও অন্যান্য উচ্চফলনশীল ধানের চেয়ে বাজারমূল্য একটু বেশি হওয়ায় কৃষকরা বেশ খুশি। কৃষি বিভাগ আশা করছে আবহাওয়া বোনা আমনের অনুকূলে থাকায় এবার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।
এবার বিঘাপ্রতি ৭ থেকে ৮ মণ ফলন পাচ্ছেন আমন চাষিরা। আবাদকৃত আমনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বিআর-২৬, ২৭, ব্রিধান-৪৮, সামনা, কুটিআংটি, লক্ষীদীঘা, হিজলদীঘা, মানিকদীঘা, গাবুরা, ঝিঙ্গাসাইল, কার্তিকশাইল, লেহাগাছা ও কাচকলা জাত। তবে সবচেয়ে ভালো ফলন হয় সামনা ও কুটিআংটি জাতের ধানের। দেশি জাতে বিঘাপ্রতি ৭-৮ মণ ফলন পেলেও উফশী জাতে বিঘাপ্রতি ৮-১০ মণ পর্যন্ত ফলন পাচ্ছেন চাষিরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, এ বছর জেলায় বোনা আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৮ হাজার ২২৩ হেক্টর জমিতে। তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আবাদ হয়েছে ৮ হাজার ৫০০ হেক্টরে। এছাড়া উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৯ হাজার ৮৬৭ মেট্রিক টন ধরা হলেও ফলন ভালো হওয়ায় হেক্টর প্রতি ১.৪ মেট্রিক টন হিসেবে মোট ১১ হাজার ৯০০ মেট্রিক টন উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে।
শরীতপুর সদর উপজেলার হাজতখোলা গ্রামের কৃষক সোলায়মান ছৈয়াল বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর বোনা আমনের চাষ ভালো হয়েছে। আশা করছি এবার ধান বিক্রি করে কৃষি ঋণ পরিশোধ করতে পারবো।
জাজিরা উপজেলার কুন্ডেরচর গ্রামের কৃষক সোবাহান সরদার বলেন, গতবছর পোকার আক্রমণে আমার দুইটি জমির ধান নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। এবার কৃষি অফিসের স্যারেরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করেছেন।
শরীয়তপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. রিফাতুল হোসাইন বলেন, শরীয়তপুরের কিছু কিছু নিন্মাঞ্চল বোনা আমন আবাদের জন্য বেশ উপযোগী। তাই আমরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর উন্নত জাতের বোনা আমন আবাদে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের কারিগরি সহযোগিতাসহ উদ্বুদ্ধকরণের কাজ নিয়মিত করেছি এবং চালিয়ে যাচ্ছি। তুলনামূলক কম খরচে ভালো ফলন পেয়ে লাভবান হওয়ায় কৃষকরাও বেশ আগ্রহের সঙ্গে এখন বোনা আমন আবাদ করছেন।
আমন কেটে কৃষক আবার একই জমিতে বিভিন্ন মসলা ফসলসহ মাটির উপযোগিতা ও গুণাগুণ অনুযায়ী অন্যান্য ফসল আবাদ করতে পারছেন। ফলে অনেক দুই ফসলি জমিই এখন তিন ফসলি জমিতে পরিণত হচ্ছে এবং কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।
ছগির হোসেন/এফএ/পিআর