আলোচনায় জেনারেল মাসুদ
ফেনীতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন লে. জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর ফেনীর একটি আসনের জন্য দুটি রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করায় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক গুঞ্জন শুরু হয়েছে।
এক-এগারোর পটপরিবর্তনের সময় আলোচিত সেনা কর্মকর্তা লে. জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী রাজনীতিতে আসছেন কি আসছেন না এ নিয়ে ধোঁয়াশা ছিল। জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিবেন এমনটা শোনা গেলেও তিনি ছিলেন নীরব। গত ৮ নভেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তফসিল ঘোষণার পর দৃশ্যপট পাল্টাতে থাকে। ১০ নভেম্বর আওয়ামী লীগের ধানমন্ডির কার্যালয় থেকে ফেনী-৩ আসনের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করে আলোচনায় আসেন তিনি।
ফেনীর মানুষ এখানকার রাজনীতি ও ভোটের হিসাব নতুন করে কষতে শুরু করে। মাসুদ মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন খবরটি ছড়িয়ে পড়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলে। এর তিন দিন পর ১৪ নভেম্বর একই আসনে তার পক্ষে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন তার ভাজিতা আবদুল্লাহ আল মিজান।
পরদিন বৃস্পতিবার মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ঘোষণা করেন পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তিনি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করবেন বলেও জানানো হয়।
এ নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে ফেনীর রাজনৈতিক অঙ্গণসহ সর্বস্তরে। তিনি আসলে কোনো দলের হয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে চান এ নিয়ে আবারও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। তিনি নৌকা নাকি লাঙ্গলের প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ নিবেন তা এখনই বলা যাচ্ছে না। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি তাদের দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করার মধ্য দিয়ে এটি নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এদিকে লে. জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর সমর্থকরা জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে তিনি জাতীয় পার্টির মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। এর আগে তাঁর (প্রধানমন্ত্রী) সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ আলাপ হয় লে. জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর। মহাজোটের প্রার্থী হয়ে তিনি ফেনী-৩ আসনে নির্বাচনে অংশ নেবেন।
দুটি দলের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের বিষয়ে মন্তব্য না করে লে. জেনারেল (অব:) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, আমিতো মহাজোটের বাইরে যাচ্ছি না। নির্বাচিত হয়ে আমার এলাকার মানুষের জন্য কাজ করতে চাই।
লে. জেনারেল (অব:) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ২০০৭ সালে সেনাবাহিনীর নবম ডিভিশনের জিওসির দায়িত্বে ছিলেন। তিনি এক-এগারোর পটপরিবর্তনের পর গুরুতর অপরাধ দমন সংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটির সমন্বয়ক ছিলেন। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার নিযুক্ত হন তিনি।
রাশেদুল হাসান/আরএআর/পিআর