চাঁদপুরে শুধু মোনাজাতেই শেষ হলো ইজতেমা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি চাঁদপুর
প্রকাশিত: ১০:০৯ এএম, ১৬ নভেম্বর ২০১৮

তাবলিগ জামাতের দু’গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এড়াতে চাঁদপুরে মেঘনার পাড়ের ৩ দিনের ইজতেমা বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। শুধুমাত্র মোনাজাতের মাধ্যমে একদিনে শেষ হলো ৩ দিনের ইজতেমা। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়। যদিও দীর্ঘ এক মাসের সকল প্রস্তুতি শেষ করা হলেও তাবলীগ জামাতের দুটি গ্রুপের মধ্যে অভ্যন্তরীণ মতবিরোধের কারণে অনাকাঙ্খিত ঘটনা এড়াতে প্রশাসনের কঠোর নিষেধাজ্ঞায় গুটিয়ে ফেলা হয় ইজতেমার কার্যক্রম।

এতে করে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ইজতেমা মাঠে উপস্থিত হওয়া ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিনে ইজতেমা মাঠে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই মুসল্লিরা মিম্বাকে সামনে রেখে সামিয়ানা বিছানো মাঠে বসে পড়ে। যে কোনো মুহূর্তে ইজতেমা বন্ধ করে দেয়া হতে পারে এমন উৎকণ্ঠা নিয়েই শুরু হয় বয়ান।

অপর দিকে এখানে ইজতেমা করার কাকরাইলের সিদ্ধান্ত নেই এমন অভিযোগ এনে তাবলীগ জামাতের অপরপক্ষ ইজতেমা বন্ধের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়। তারা যে কোনো মূল্যে ইজতেমা বন্ধ করে দেবে বলে প্রশাসনকে জানায়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে শান্ত হওয়ার কথা বলা হলে তারা চাঁদপুর পৌর ইদগাহ্ মাঠে গিয়ে জড়ো হয়। খবর পেয়ে চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশের ওসি ইবরাহিম খলিল সেখানে গিয়ে তাদের শান্ত করেন। আর বিপুল সংখ্যক পুলিশ ইজতেমা মাঠে গিয়ে অবস্থান নেয়।

পুলিশ সেখানে গিয়ে মুসল্লিদের ইজতেমার কার্যক্রম গুটিয়ে ফেলার নির্দেশনা দেন। এতে মুসল্লিরা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলে এক পর্যায়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে হতে থাকে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ নাছির উদ্দিন আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল।

Chandpur

তারা দু’জনই তাদের বক্তব্যে ইজতেমায় শরীক হওয়া মুসল্লিদের বলেন, আমরা আপনাদের এই আয়োজনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমরা বিশ্বাস করি নিঃসন্দেহে এই আয়োজনটি মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য করা হয়েছে। এখানে ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য নেই। কিন্তু তারপরেও আপনাদের অপর একটি পক্ষ এটি বন্ধ করার জন্য প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে। যার ফলে প্রশাসন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি এড়াতে নিরাপত্তার স্বার্থে ইজতেমা বন্ধ করার জন্যে বলেছে। আমরা আপনাদের কথা দিচ্ছি যে, নির্বাচনের পরে এখানেই আপনাদের ইজতেমা করতে দেয়া হবে। একপর্যায়ে মুরব্বিরা মোনাজাতের মাধ্যমে ইজতেমা শেষ করার সিদ্ধান্ত নেন।

চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খান জাগো নিউজকে বলেন, ইজতেমা হওয়ার বিষয়ে আমাদের কোনো ধারণা ছিল না। কিন্তু দুটি পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নেয়ায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, অনুমতি ছাড়াই একটি পক্ষ ইজতেমা করতে যাচ্ছিল। আর আরেকটি পক্ষ সেটি বন্ধ করে দেয়ার জন্য রওনা দিচ্ছিলো। এমন অবস্থায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে আমরা ইজতেমা মাঠ থেকে তাদের সরে যেতে বলেছি।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি কাকরাইল মার্কাজ ভিত্তিক তাবলিগ জামাত দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। যার ফলশ্রুতিতে চাঁদপুরেও তাবলিগের মুসল্লিরা দুইভাগে বিভক্ত। সেই অভ্যন্তরীণ মতবিরোধের কারণে চাঁদপুর মেঘনা পাড়ে তিন দিনব্যাপি জেলা ইজতেমা নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নেয় তাবলিগ জামাতের দুটি গ্রুপ। এর মধ্যে দিয়ে একটি পক্ষ মেঘনা পাড়ে ইজতেমার জন্য সকল প্রস্তুতি শুরু করে আর অপর গ্রুপটি ইজতেমা বন্ধের জন্য জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদানসহ বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালায়। ফলে জেলা ইজতেমায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির আশঙ্কায় জেলা প্রশাসনের আহ্বানে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে তাবলিগ জামাতের দুই পক্ষকে নিয়ে জরুরি বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। এতে উভয়ের মতামতের প্রেক্ষিতে আগামী ২২ থেকে ২৪ নভেম্বর পুরাণবাজার জাফরাবাদ এলাকায় মেঘনা পাড়ে দ্বিতীয় বারের মতো জেলা ইজতেমা হওয়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়। কিন্তু অপর পক্ষটি পুণরায় তাদের পূর্বের অবস্থানে ফিরে আসলে শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসন ইজতেমা বন্ধ করে দেয়।

ইকরাম চৌধুরী/এমএএস/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :