জাহাঙ্গীরের ‘মানবতার দেয়াল’

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নেত্রকোণা
প্রকাশিত: ১২:৫৯ পিএম, ১৯ নভেম্বর ২০১৮

‘আপনার অপ্রয়োজনীয় জিনিস রেখে যান, প্রয়োজনীয় জিনিস এখান থেকে নিয়ে যান’ ব্যতিক্রমধর্মী এ উদ্যোগ গ্রহণ করেন নেত্রকোণার দুর্গাপুর উপজেলা সীমান্ত এলাকার এক যুবক জাহাঙ্গীর মাহমুদ। তার এ আহ্বানে সাড়া দিয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন এলাকাবাসীও।

মেঘালয়ের পাদদেশে অবস্থিত সীমান্তবর্ন্তী উপজেলা নেত্রকোণার দুর্গাপুর। গারো, হিন্দু, মুসলিম খ্রিস্টানসহ বেশ কয়েকটি সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস এই সীমান্ত এলাকায়। পাহাড় ঘেরা জনপদ হওয়ার শীতের প্রকোপ চলে আসে আগেভাগেই। ফলে শীতে অসহায় হয়ে পড়ে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত ছিন্নমূল মানুষজন।

ছিন্নমূল এসব মানুষের সমস্যা কিছুটা লাঘব করতে ১৫ নভেম্বর জাহাঙ্গীর মাহমুদ দুর্গাপুর পৌরসভার শিবগঞ্জ বাজারের মসজিদ মার্কেটের একটি দেয়ালে গড়ে তোলেন ‘মানবতার দেয়াল’।

শুরুতে এলাকার কয়েকজনের সহযোগিতায় দেয়ালে রঙ করে দুইটি হ্যাঙারে পুরাতন কিছু কাপড় ঝুলিয়ে চিন্তা আত্মপ্রকাশ ঘটান জাহাঙ্গীর। তার এই ব্যাতিক্রমী উদ্যোগ দেখে দু’দিনের মাঝেই বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে জাহাঙ্গীরের ‘মানবতার দেয়াল’।

জাহাঙ্গীর মাহমুদ সম্প্রতি সুসং সরকারি কলেজ থেকে ডিগ্রি পাস করেছেন। পড়াশুনা শেষে কোনো চাকরিতে না গিয়ে শুরু করেন নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। বাবা ইদ্রিস আলী সরকার বীর মুক্তিযোদ্ধা। তিনিও সমাজের উন্নয়নের কাজ করে আসছেন।

মানবতার দেয়াল ছাড়াও রক্তদান বিষয়ে স্থানীয়ভাবে ‘আমরা ব্লাড ডোনার’ নামের আরও একটি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত আছেন জাহাঙ্গীর। বিগত ৪ বছরে প্রায় ২০০ ব্যাগ রক্তের জোগান দেয়া হয় সংগঠনটির পক্ষ থেকে।

‘মানবতার দেয়াল’ বিষয়ে চাইলে জাহাঙ্গীর মাহমুদ বলেন, ব্যাগ তৈরির জন্য পুরনো প্যান্ট কিনতে বাজার গিয়ে মানুষের ভিড় দেখি। এ সময় মাথায় এলো পুরাতন কাপড়গুলো কিভাবে অন্যদের দেয়া যেতে পারে। আমরা হেলায় বা আলসতার কারণে কাউকে দান করতে পারি না। আবার কাকে দিব, দিতে গেলে সে নেয় কি না, কাপড়টা দিয়ে তাকে ছোট করা হবে কিনা এরকম বিভিন্ন প্রশ্ন আমাদের মনে আসে। কিন্তু যদি এটাকে এমন একটা স্থানের রেখে যায় যেখানে সবাই নিজের মানবতা বোধ থেকে ইচ্ছামতো অপ্রয়োজনীয় জিনিস রেখে যাবে আবার প্রয়োজনীয় যেকোনো জিনিস নিতেও পারবে। এখানে কাউকে কারো মুখোমুখি হতে হবে না।

তিনি আরো বলেন, আমার ইচ্ছা এটাকে সারাদেশে ছড়িয়ে দেয়ার। আমাদের আশেপাশের গরিব অসহায় মানুষগুলা যেন কাপড়ের জন্য বিশেষ করে শীতের কাপড়ের জন্য কষ্ট না করে। এই জন্যই এই উদ্যোগ। আমার কাছে যে কাপড়টার তেমন কোনো মূল্যই নেই, সেই কাপড়টা আমার পাশের একজন গরিব মানুষের কাছে অনেক প্রয়োজনীয়।

কামাল হোসাইন/এফএ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।