হেলিকপ্টার হুজুরের পক্ষে সাফাই গাইলেন তার পিএস
ট্রেনে করে ঢাকায় পৌঁছেছেন ‘হেলিকপ্টার হুজুর’ মাওলানা মো. হাফিজুর রহমান সিদ্দিক (কুয়াকাটা)। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টায় তিনি ঢাকায় পৌঁছান বলে নিশ্চিত করেছেন তার পিএস মো. রফিকুল ইসলাম।
মো. রফিকুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টায় রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী আন্তঃনগর পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনে আমরা ঢাকায় পৌঁছাই। হুজুর বর্তমানে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার আদর্শ নগরে তার ভাড়াবাসায় অবস্থান করছেন।
তিনি আরও বলেন, হুজুরকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি নিরাপত্তার কারণে আমাদের রেখে চলে আসে। মাহফিল কর্তৃপক্ষ তিন বছর ঘুরে শিডিউল নিয়েছিল। হুজুরের অফিসে বড় অক্ষরে লেখা আছে হেলিকপ্টার কেউ আবেদন করবেন না। না করার জন্য অনুরোধ রইলো। একান্ত যদি কেউ নিতে চান তাহলে একক খরচে নিতে হবে। অন্যথায় কোনো মাদরাসা বা মসজিদের তহবিল থেকে খরচ দেয়া যাবে না। কিন্তু ওই কমিটি বার বার হুজুরকে হেলিকপ্টারে করে নিয়ে যাবেন বলে জানান এবং একটু হলেও সময় দেয়ার আকুতি জানান।
তিনি জানান, পাবনার চাটমোহরে প্রধান যে সমস্যা হয়, সেখানে হেলিকপ্টারটি প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরত্বে নামায়। সেখান থেকে জলসা কমিটির হুন্ডার বহরে করে স্টেজে পৌঁছাতে আরও প্রায় ২৫ মিনিট সময় ব্যয় হয়। কিন্তু অন্যস্থানে হেলিকপ্টার আমাদের স্টেজের পাশেই নামিয়ে দেয়। যেহেতু ওখানে স্টেজে যেতে ২৫ মিনিট সময় নষ্ট হয়েছে সেহেতু হেলিকপ্টারের কাছে আসতে আবারও ২৫ মিনিট সময়ের প্রয়োজন রয়েছে?
এছাড়া পাবনার মাহফিলে বিশেষ বক্তার বয়ান শেষ না করায় হুজুরকে বসিয়ে রাখা হয়। সেখানেও অনেকটা সময় চলে যায়। আবার সন্ধ্যার আগেই হেলিকপ্টারটি ঢাকায় পৌঁছাতে হবে। তাই হাতে সময় না থাকায় হুজুর ৫০ মিনিট বয়ান করেছেন। ফলে মাহফিল শেষ করে স্টেজ থেকে নামার সময় ওই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে হেলিকপ্টারের কাছে পৌঁছাতে পারলেও নিরাপত্তার কারণে সেটি আমাদের রেখে ঢাকায় চলে আসে।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার পাবনার চাটমোহরে পৌর শহরের বালুচর মাঠে হেলিকপ্টারে জলসা করতে এসে চুক্তি অনুযায়ী ওয়াজ না করায় আয়োজক ও মুসল্লিদের জনরোষের মুখে পড়েন প্রধান বক্তা মাওলানা মো. হাফিজুর রহমান সিদ্দিক (কুয়াকাটা)।
মহিব্বুল্লাহ্ চৌধুরী/এফএ/এমএস