ঠাকুরগাঁওয়ে দুই ভাইয়ের নাম উচ্চারণ করতে ভয় পায় গ্রামবাসী

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ঠাকুরগাঁও
প্রকাশিত: ১০:০৪ পিএম, ০৮ জানুয়ারি ২০১৯

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বড়গাঁও ইউনিয়নের চৌধুরী হাট এলাকায় এক আওয়ামী লীগের কর্মীর দাপটে অতিষ্ট হয়ে উঠেছে এলাকাবাসী। আওয়ামী লীগের ওই কর্মী মাহাবুব ও তার সহকর্মীদের বিরুদ্ধে দিনে দুপুরে রাস্তার পাশে সরকারি গাছ কর্তনসহ সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখানোসহ আরও অনেক অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসীর।

মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে বড়গাঁও চৌধুরী হাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পোস্ট অফিসের সামনে দুটি সরকারি গাছ কর্তন করা হয়েছে। কর্তনকৃত গাছ সরিয়ে ফেললেও গাছের লতা পাতা ও গাছের গোড়া পড়ে রয়েছে। গাছ কর্তনের বিষয়ে হাটের কয়েকজনকে জিজ্ঞাসা করলে নিরবতা পালন করেন বেশির ভাগ মানুষ। ওইসব নিরীহ মানুষের চোখে মুখে আতঙ্কের ছাপ দেখে বোঝা যায় ভয়ে কেউ কিছু বলছেন না।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক দোকানদার বলেন, ভাই এলাকার কেউ গাছ কর্তনকারীর নাম বলবে না। ওই ব্যক্তির কথা শুনে কাছে গিয়ে কিছুক্ষণ আলাপ-আলোচনার পর উঠে আসে প্রভাবশালী মাহাবুব নামে আওয়ামী লীগের কর্মীর নাম।

Thakurgaon-Tree

ওই দোকানদার বলেন, নির্বাচনের আগে থেকেই মাহাবুব ও তার ছোট ভাই ছাত্রলীগের বড় নেতা দাবিদার আসাদুজ্জামান রনি সরকার দলীয় নেতা বলে ক্ষমতার অপব্যবহার করে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব গড়ে তুলেছে। তারাই গত সোমবার সকলের উপস্থিতিতে পোস্ট অফিসের সামনের গাছ দুটো কেটেছে। কিছুদিন আগে তাদের লোকজন এই বাজারের প্রতিটি দোকানে ভাঙচুর ও তাণ্ডব চালিয়েছে বলে অভিযোগও করেন।

সিরাজুল ইসলাম (৭০) নামে এক বৃদ্ধ জানান, পুলিশও ভয়ে আওয়ামী লীগের কর্মী মাহাবুব ও তার ছোট ভাই রনির কথায় চলে যায়। আপনাদের লেখালেখিতে তাদের কিছুই হবে না। ক্ষমতা তো এখন তাদের হাতে। এলাকার চেয়ারম্যানকে অভিযোগ করলেও কোনো লাভ নেই। কারণ উনি তো বিএনপির লোক। তাই মানুষ ভয়ে কোথাও অভিযোগ করে না।

এ ঘটনায় বড়গাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রভাত সিং জানান, নির্বাচনের আগে থেকে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দাপটে অসহায় হয়ে পড়েছে চৌধুরী হাটের সাধারণ মানুষ। তিনি অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনের আগের দিন দুবৃর্ত্তরা আওয়ামী লীগের কর্মীদের কয়েকটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয়। গাড়ি পোড়ানোর মামলার আসামি করা হয় বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে। আওয়ামী লীগের মাহাবুব ও তার ছোট ভাই ছাত্রলীগের নেতা রনি এলাকায় সরকারি গাছসহ নানা রকম অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে।

অভিযুক্ত আওয়ামী লীগের নেতা মাহাবুবের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

Thakurgaon-Tree

পরে কথা হয় মাহাবুবের ছোট ভাই ছাত্রলীগ নেতা আসাদুজ্জামান রনির সঙ্গে। তিনি জানান, কর্তনকৃত গাছগুলো সরকারি না, ক্লাবের সামনের তাই কাটা হয়েছে। এলাকায় কোনো মানুষকে ভয় ও সরকার দলীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করা হয় না বলেও জানান তিনি। এ সময় গাছ কাটার বিষয়ে নিউজ না করারও অনুরোধ করেন তিনি।

জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার পারভেজ পুলক জানান, ছাত্রলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে কোনো নেতাকর্মী যদি ক্ষমতার অপব্যবহার করে তাহলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ঠাকুরগাঁও সদর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি অরুনাংশু দত্ত টিটো জানান, আওয়ামী লীগ একটি সুশৃঙ্খল দল। কেউ যদি দলের নাম ব্যবহার করে অপকর্মের সঙ্গে জড়িত থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ঠাকুরগাঁও সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশিকুর রহমান জানান, বড়গাঁও ইউনিয়নে গাছ কাটা বা মানুষকে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে এমন অভিযোগ থানায় কেউ করেনি। যদি কোনো প্রকার অভিযোগ পাওয়া যায় তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

রিপন/এমএএস/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :