ঠাকুরগাঁওয়ে সরকারি গাছ কাটার ঘটনায় থানায় অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ঠাকুরগাঁও
প্রকাশিত: ০৯:৫১ পিএম, ০৯ জানুয়ারি ২০১৯

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বড়গাঁও ইউনিয়নের চামেশ্বরী চৌধুরী হাট এলাকায় দুটি সরকারি গাছ কাটার অভিযোগে ৩ জনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এক সহকারী ভূমি কর্মকর্তা। গতকাল মঙ্গলবার রাতে বড়গাঁও ইউনিয়ন পরিষদের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার অবৈধভাবে গাছ কর্তনের ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। তবে বিষয়টি আমলে না নিয়ে আড়াল করার পাঁয়তারার অভিযোগ উঠেছে সদর থানা পুলিশের ওসির বিরুদ্ধে।

অভিযুক্ত তিনজন হলেন, চামেশ্বরী এলাকার মৃত খতিব উদ্দিনের ছেলে মাহাবুব আলম, সিরাজুল ইসলামের ছেলে সাজেদুর রহমান ও দেবীপুর এলাকার সমশের আলীর ছেলে গোলাম রব্বানী।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলা বড়গাঁও ইউনিয়নের চামেশ্বরী চৌধুরী হাট এলাকায় রাস্তার পাশে দুটি বড় ইউক্লিপটাস গাছ মাহাবুবের নেতৃত্বে গত সোমবার বিকেলে কেটে ফেলা হয়। খবর পেয়ে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের লোক ঘটনাস্থলে গেলে তাৎক্ষণিক সড়িয়ে ফেলা হয় গাছ দুটি। ঘটনাটি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবগত করলে আইনী ব্যবস্খা গ্রহণের পরামর্শ দেন।

গাছ কর্তনের সময় প্রত্যক্ষদর্শী অনেকেই জানান, সরকারি গাছ দুটি কাটার সময় অনেকেই বাধা দেয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক রবি ও তার ভাই মাহাবুব আলম দ্রুত গাছগুলো কেটে সরিয়ে ফেলেন। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতার ভাই মাহাবুব আলম একটি কলেজের প্রভাষক হওয়া সত্তেও সরকার দলীয় লোক বলে এলাকায় গাছ কর্তনসহ বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে বড়গাঁও ইউনিয়ন পরিষদের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার জাগো নিউজকে জানান, কর্তনকৃত গাছ দুটি সরকারি জমিতে ছিল। অবৈধভাবে সরকারি গাছ কর্তনের নিয়ম নেই। তাই ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় গাছ কাটার সঙ্গে জড়িত থাকায় ৩ জনের নামে থানায় এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

তবে অভিযুক্ত মাহাবুব আলমের সঙ্গে গাছ কর্তনের বিষয়ে জানতে চাইলে কোনোভাবেই যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

Thakurgaon

বড়গাঁও ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান প্রভাত সিং জাগো নিউজকে বলেন, গাছ কাটার কথা শুনেছি। ইউনিয়ন ভূমি অফিসকে যাচাই-বাছাই করে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন জাগো নিউজকে জানান, সরকারি গাছ টেন্ডার ছাড়া ব্যক্তিগতভাবে কর্তনের নিয়ম নেই। যেহেতু দাগ খতিয়ানে গাছগুলো সরকারি বিবেচিত তাই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে ইউনিয়ন ভূমি অফিসকে।

এ বিষয়ে সদর থানা পুলিশের ওসি আশিকুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি জাগো নিউজকে বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

অপরদিকে ৮ ডিসেম্বর সদর থানায় লিখিত এজাহারে ডিউটি অফিসারের স্বাক্ষর রয়েছে। লিখিত অভিযোগটির রিসিভ কপি ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা জব্বারের কাছে রয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেছেন।

রিপন/এমএএস/জেআইএম