প্রাণ ফিরেছে নওগাঁ সরকারি গণগ্রন্থাগারে

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নওগাঁ
প্রকাশিত: ০১:২৫ পিএম, ১০ জানুয়ারি ২০১৯

বই পড়ার আগ্রহ বেড়েছে পাঠকদের। ফলে নওগাঁ সরকারি গণগ্রন্থাগারে ফিরেছে প্রাণ। পাঠকদের পদচারণায় গ্রন্থাগারটি যেন প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পেয়েছে। কিছুদিন আগেও যেখানে পাঠক খুঁজে পাওয়া যেত না আজ সেখানে বসার জায়গা পাওয়াই ভার।

এখানে কেউ আসেন বইয়ের টানে। আবার কেউবা খবরের কাগজ পড়তে। তবে জেলা প্রশাসকের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ‘পাঠক ফোরামের’ কারণেই লাইব্রেরিটিতে প্রাণ ফিরেছে বলে জানান পাঠকরা।

জানা গেছে, ১৯৮২ সালে শহরের কালীতলায় হোয়াইট হাউসের দ্বিতীয় তলায় লাইব্রেটির যাত্রা শুরু হয়। শহর থেকে কিছুটা দূরে হওয়ায় পাঠকদের আনাগোনাও ছিল কম। এছাড়া পড়াশুনার পরিবেশও তেমন একটা ছিল না। ফলে একসময় পাঠকশূন্য হয়ে পড়ে এটি। ২০১১ সালে শহরের দয়ালের মোড়ে লাইব্রেরিটি স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে এখানে ৩৫টি সেলফে প্রায় ২৭ হাজার আত্মজীবনী, গল্প, উপন্যাস, ইসলামিক, একাডেমিক ও ছোটদের ছড়াসহ বিভিন্ন বই রয়েছে।

লাইব্রেরিতে একজন প্রথম শ্রেণির লাইব্রেরিয়ান, একজন সহকারী লাইব্রেরিয়ান, একজন জুনিয়র লাইব্রেরিয়ান ও একজন এমএলএস আছেন। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকে এটি। এছাড়া বৃহস্পতি ও শুক্রবার বন্ধ থাকে গ্রন্থাগারটি।

লাইব্রেরিতে একটি পাঠক ফোরাম গঠন করা হয়েছে। যেখানে সপ্তাহে দুইদিন ক্লাস এবং পরীক্ষা হয়। শিক্ষার্থীরা যে যে বিষয়ের উপর পড়াশুনা করেছেন মূলত তারাই ক্লাস নিয়ে থাকেন। প্রতিদিন প্রায় দুইশ পাঠকের আগমন ঘটে এখানে।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান থেকে মাস্টার্স করা মাহতাব আলী বলেন, চাকরির বই পড়ার পাশাপাশি বিখ্যাত ব্যক্তিদের জীবনি পড়ি। সাপ্তাহিক দুইদিন রোববার ক্লাস এবং বুধবার পরীক্ষা হয়ে থাকে। এটার জন্য সার্বিক সহযোগিতা করেছেন জেলা প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান। মূলত তিনি পাঠক ফোরাম গঠন করে দিয়েছেন আমাদের সুবিধার জন্য। অনেক সময় তিনি নিজেও আমাদের ক্লাস করান। বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতিসহ দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির চাকরির প্রস্তুতির জন্য লাইব্রেরিতে এসে নিয়মিত পড়াশুনা করা হয়।

মেহেদী হাসান নামে আরেক পাঠক বলেন, বাড়িতে সব পত্রিকা কিনে পড়া সম্ভব না। তাই সকালে লাইব্রেরিতে এসে পত্রিকা পড়ি। বিশেষ করে কলাম, খেলার পাতা ও আন্তর্জাতিক পাতা পড়তে ভালো লাগে।

গ্রন্থাগারের লাইব্রেরিয়ান এসএম আশিফ বলেন, দিন দিন পাঠক সংখ্যা বাড়ছে। এতে করে স্থান সঙ্কুলানেরও সমস্যা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান বলেন, পাবলিক লাইব্রেরিটি যথাযথ ব্যবহারের জন্য পাঠক ফোরাম গঠন করা হয়েছে। বই পড়ার পর সেখানে কুইজ ও রচনা প্রতিযোগিতার মাধ্যমে এক আনন্দমুখর পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। এতে সেখানে দিন দিন পাঠক সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আব্বাস আলী/এফএ/এমকেএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।