সেতুর দুই পাশে নেই রেলিং, ঝুঁকি নিয়ে চলাচল

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ঝিনাইদহ
প্রকাশিত: ০৯:৫০ এএম, ১২ জানুয়ারি ২০১৯

ঝিনাইদহের পোড়াহাটি-বারইখালী সড়কের নবগঙ্গা নদীর ওপর নির্মিত সেতুর দুই পাশের রেলিং দীর্ঘদিন ধরে ভেঙে পড়ে আছে। রেলিং নির্মাণের রডগুলোও চুরি হয়ে গেছে। রেলিং ছাড়া সেতুতে চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। কিন্তু সংস্কারের নেই উদ্যোগ।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বারইখালী, ইস্তেকাপুর, আড়ুয়াডাঙ্গা ও বাস্তেপুর নামের চারটি গ্রামের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ দীর্ঘদিন বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করতেন। বারইখালী গ্রামের শেষে নবগঙ্গা নদীতে সাঁকো বসিয়ে ঝিনাইদহ শহরে যাতায়াত করতেন। এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে ২০০২-০৩ অর্থ বছরে এলজিইডি কর্তৃপক্ষ এই স্থানে ৩৯ মিটার লম্বা ও ৮ ফুট চওড়া একটি সেতু নির্মাণ করে। ২০০৩ সালের ৩০ জানুয়ারি সেতুটির উদ্বোধন করা হয়। এরপর থেকে ওই এলাকার মানুষ এ সেতু দিয়ে চলাচল করছেন।

বারইখালী গ্রামের সলিম উদ্দিন লস্কার বলেন, গত ৩ থেকে ৪ বছর হলো ব্রিজের রেলিং ভাঙতে শুরু করে। প্রথমে একপাশের রেলিং ভেঙে পড়ে। এর কয়েক মাসের মধ্যে আরেক পাশের রেলিংও ভেঙে যায়। দীর্ঘদিন পড়ে থাকার কারলে রেলিংয়ের রডগুলোও চুরি হয়ে গেছে।

ভ্যানচালক সলেমান মিয়া বলেন, ব্রিজের ওপর রেলিং না থাকায় খুবই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। এই ব্রিজ ব্যবহার না করলে ঝিনাইদহ শহরে আসতে আরও তিন কিলোমিটার ঘুরতে হয়। যে কারণে ঝুঁকি হলেও এই ব্রিজ ব্যবহার করি।

setu02

গ্রামের আরেক বাসিন্দা গোলাম মোস্তফা বলেন, রেলিং না থাকায় ভ্যান-রিকশা সেতুর ওপর উঠতে চায় না। কয়েকদিন হলো দুইটা ইট বহনকারী নসিমন গাড়ি সেতুর ওপর উঠে নিচে পড়ে গিয়ে দুই চালক আহত হয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, সেতুর ওপর একটা ভ্যানগাড়ি থাকলে পাশ দিয়ে কোনো মানুষ যেতে পারে না। অথচ রেলিং থাকলে ভ্যানগাড়ি ও মানুষ পাশাপাশি যাওয়া সম্ভব।

স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর রহমান জানান, এই ভাঙা সেতুর বিষয়ে তারা উপজেলা প্রকৌশলীর দফতরে ইতিপূর্বে একাধিকবার জানিয়েছেন। কিন্তু কোনো কাজ না হওয়ায় ধর্ণা দেয়া বন্ধ করেছেন। সাধারণ মানুষের যানমাল রক্ষায় দ্রুত সেতুটির রেলিং মেরামত করা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা এলজিইডির উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আসাদুজ্জামান জানান, সড়কটি গ্রাম্য সড়ক। সেই সময়ে এলাকার মানুষের প্রয়োজনে সেতুটি নির্মাণ হলেও এখন গ্রাম্য সড়কের সংস্কার কাজে বাজেট পাওয়া কষ্টকর। যে কারণে তারা ইচ্ছা থাকলেও এটা মেরামত করতে পারছেন না তারা। তবে সেতুটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।

আরএআর/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :