গ্রামজুড়ে কান্নার রোল, মায়েদের আহাজারি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি পাবনা
প্রকাশিত: ০৫:৩৭ পিএম, ১৬ জানুয়ারি ২০১৯

মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় কাজের সন্ধানে গিয়ে মেঘনা নদীতে তেলবাহী ট্যাংকারের ধাক্কায় মাটিবোঝাই ট্রলার ডুবে ২০ জন নিখোঁজ হয়েছেন। এর মধ্যে ১৭ জনের বাড়ি পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়নে।

গজারিয়া উপজেলার ভক্তখালী ট্রলারে মাটি কাটার কাজে যান এসব শ্রমিক। মঙ্গলবার রাতে ট্রলার ডুবে এসব শ্রমিক নিখোঁজের খবর তাদের গ্রামের বাড়ি পৌঁছালে পড়ে যায় কান্নার রোল। একে-অপরকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন ১৭ শ্রমিকের স্বজনরা। বর্তমানে উপজেলার ওই গ্রামে চলছে শোকের মাতম।

নিখোঁজ ১৭ জন শ্রমিক ভাঙ্গুড়া উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়নের বাসিন্দা। তারা হলেন- খানমরিচ ইউনিয়নের মন্ডুমালা গ্রামের রফিকুল ইসলাম (৩৬), মানিক (২৫), তুহিন (২০), নাজমুল হোসেন (২০), জাহিদ (২০), সোলেমান (৩৫), নাজমুল ইসলাম (২০), আলিফ (২০), মোস্তফা (২২), মাদার বাড়িয়া গ্রামের আজাদ (৪৫), দাসমরিচ গ্রামের এক পরিবারের চারজন হলেন- মোশারফ (৪৫), ওমর (২৫), মোন্নাফ (১৮), রুহুল (২২) ও ইসমাইল (৪৫) এবং চন্ডিপুর গ্রামের আমিন (১৮) ও হাছান (২৫)।

1

ট্রলার ডুবিতে শ্রমিকদের নিখোঁজ হওয়ার খবর বাড়ি পৌঁছার পরই ওই গ্রামের স্বজনদের কান্নায় আকাশ-বাতাস ভারি হয়ে ওঠে। দূর থেকে শোনা যায় কান্নার রোল।

বুধবার সকালে নিখোঁজ শ্রমিকদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে ও বাবা-মা এবং পরিবারের সদস্যদের মধ্যে চলছে আহাজারি। এক বাড়ি থেকে শোনা যায় পাশের বাড়ির কান্নার শব্দ। মায়েদের আহাজারি কিছুতেই থামছে না। এর মধ্যে কেউ কেউ কোরআন শরিফ পড়ছেন আবার কেউ কেউ দোয়া-দরুদ পড়ে স্বজনদের ফেরার অপেক্ষা করছেন।

একসঙ্গে এত মানুষ নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় শুধু স্বজনরা নয়, শোকাহত পুরো গ্রাম। ওই গ্রামে বাইরের যে কাউকে দেখলেই তাদের কাছে স্বজনদের সন্ধান চাচ্ছে পরিবারের সদস্যরা।

ডুবে যাওয়া ট্রলারের শ্রমিক নিতাইয়ের বাবা অমূল্য বলেন, নয়দিন আগে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ভক্তখালী ট্রলারে মাটি কাটার কাজে যায় এসব শ্রমিক। বুধবার সকালে নিতাই ফোনে জানায় মঙ্গলবার রাতে ট্রলারের কেবিনে ঘুমিয়েছিল তারা। রাত সাড়ে ৩টার দিকে ট্রলারটি কালিয়াপুর নামক স্থানে পৌঁছার পর বিপরীত দিক থেকে আসা একটি তেলবাহী ট্যাংকার ট্রলারটিকে ধাক্কা দেয়। এতে ট্রলারটি ডুবে যায়। ট্রলারে থাকা শ্রমিকদের মধ্যে নিতাইসহ পাঁচজন সাঁতরে তীরে উঠলেও ২০ জন নিখোঁজ হন। তাদের এখনও কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

3

এ নিয়ে খানমরিচ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আসাদুর রহমান বলেন, মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় নিখোঁজ শ্রমিকদের সন্ধান নেয়ার জন্য লোক পাঠানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে ভাঙ্গুড়া থানা পুলিশের ওসি মো. মাসুদ রানা বলেন, নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন চাটমোহরের অতিরিক্ত এসপি এসএম ফজল ই খুদা। নিখোঁজদের সন্ধানের চেষ্টা চলছে।

এদিকে, মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারুক আহাম্মেদ বলেন, ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে স্থানীয় পুলিশ পাঠানো হয়। বুধবার সকাল থেকে বিআইডব্লিউটিএ, মুন্সিগঞ্জ সদর থানা পুলিশসহ উপজেলা কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে আছি আমরা। এখনও ট্রলারডুবির কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। তবে খোঁজ করা হচ্ছে।

একে জামান/এএম/এমকেএইচ

আপনার মতামত লিখুন :