কুমিল্লায় দেরিতে প্রশ্নপত্র বিতরণের ঘটনায় দুই তদন্ত কমিটি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কুমিল্লা
প্রকাশিত: ০৯:৩২ পিএম, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯
ফাইল ছবি

কুমিল্লার দেবিদ্বারে এসএসসি পরীক্ষা শুরু হওয়ার পৌনে এক ঘণ্টা পর একটি কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীদের মাঝে রচনামূলক (সৃজনশীল) প্রশ্ন বিতরণ করার অভিযোগে পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় দুয়ারিয়া এজি মডেল একাডেমীর অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব মো. আবু সেলিম ভূঁইয়াকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

এছাড়াও এ ঘটনায় বোর্ড ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো: রুহুল আমিন ভূঁইয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা যায়, এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে জেলার দেবিদ্বার উপজেলার দুয়ারিয়া এজি মডেল একাডিমী কেন্দ্রে ৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৫৭৬ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষার জন্য বোর্ড থেকে ৪ নং সেটের (গাঁদা) রচনামূলক প্রশ্ন কেন্দ্রে বিতরণের নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু প্রশ্নের প্যাকেটে ৪ নং সেট না থাকায় বিপাকে পড়ে কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ। খবর পেয়ে কেন্দ্রে পৌঁছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ অন্যান্যরা। পরে বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে প্রশ্ন সংগ্রহ করে প্রায় ৪০ মিনিট পর প্রশ্ন বিতরণ করে অতিরিক্ত সময় বাড়িয়ে পরীক্ষা নেয় কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ। খবর পেয়ে বিষয়টির তদন্তে নামে বোর্ড ও জেলা প্রশাসন।

সন্ধ্যায় বিষয়টি তদন্ত করতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( শিক্ষা ও আইসিটি) মো. মাঈনুদ্দিনকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। কমিটির অপর সদস্যরা হলেন- দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবীন্দ্র চাকমা ও দেবিদ্বার থানা পুলিশের ওসি জহিরুল আনোয়ার।

অপরদিকে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকেও পৃথক আরও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের উপ-বিদ্যালয় পরিদর্শক কামরুজ্জামানকে আহ্বায়ক এবং উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ সহিদুল ইসলাম ও উপ-সচিব (প্রশাসন) একেএম শাহাব উদ্দিনকে সদস্য করে গঠিত তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। রোবারের মধ্যেই কমিটিকে রিপোর্ট দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

তদন্ত কমিটির সদস্য উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ সহিদুল ইসলাম জানান, কেন্দ্রে প্রশ্ন নেয়ার দায়িত্বে যারা ছিলেন তারা থানা থেকে ৪ নং সেটের প্রশ্ন নেননি। বিকেলে তদন্তে থানায় গিয়ে ৪ নং সেটের ট্রাংকটি পাওয়া গেছে।

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. রুহুল আমিন ভূঁইয়া জানান, এ ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত কমিটি গঠন করে দেবিদ্বারে পাঠানো হয়েছে। এরই মধ্যে দায়িত্বে অবহেলার কারণে ওই কেন্দ্রের সচিবকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কামাল উদ্দিন/আরএআর/এমকেএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।