শরীয়তপুরে দু’গ্রুপের সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত ৩৫

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি শরীয়তপুর
প্রকাশিত: ০৯:০৮ পিএম, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ঘরিসার ইউনিয়নের সুরেশ্বর দরবার শরীফে জমি নিয়ে বিরোধে দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংষর্ষে পুলিশসহ দুই গ্রুপের অন্তত ৩৫ জন আহত হয়েছে। আহতদের বিভিন্ন ক্লিনিক, নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এ সংঘর্ষ চলে।

আহতরা হলেন- নড়িয়া থানা পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা আবু বকর মাতব্বর, শরীয়তপুর পুলিশ লাইনের এএসআই রবিউল, কনস্টেবল ইয়াকুব, ইমাম, আনিছ, সিফাত, মোক্তার, জেলা ও দায়রা জজ আদালতের জারিকারক মনোজ বিশ্বাস, আক্কাস, পরান চন্দ্র দাস, মমিন, নজরুল ইসলাম, দরবারের ভক্ত মাহবুব, মো. বশির, নয়ন, আওলাদ, মো. জাকির হোসেন, মাসুম, ওসমান গনি, খোরশেদ, নুরু, শফিক, নুরুল ইসলামসহ ৩৫জন।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, উপজেলার সুরেশ্বর দরবার শরীফের বর্তমান গদীনশীল সৈয়দ শাহ নুরে কামালের সঙ্গে সৈয়দ শাহ নুরে আক্তার হোসেন চুন্নুর দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এ ঘটনায় আদালতে একাধিক মামলা রয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে জমির দখল বুঝিয়ে দেয়ার জন্য শরীয়তপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালত থেকে পুলিশের একটি দল নিয়ে জারিকারক সুরেশ্বর দরবার শরীফে যান। এ সময় চুন্নু গ্রুপের লোকজন কামাল নুরীর আস্তানার সামনের পাকা সড়ক সাবল দিয়ে উঠাতে থাকে।

কামাল নুরীর লোকজন বাধা দিলে দুই পক্ষের লোকজনদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। বাগবিতণ্ডার এক পর্যায়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ বাধে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল ছোড়ে। সংঘর্ষে পুলিশ এবং জেলা ও দায়রা জজ আদালতের কর্মরত জারিকারকসহ অন্তত ৩৫ জন আহত হন। আহতদের বিভিন্ন ক্লিনিক, নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

বর্তমান গদীনশীল সৈয়দ শাহ নুরে কামাল বলেন, নড়িয়া-সুরেশ্বর সড়কের ইশাপাশা কালভার্ট থেকে সুরেশ্বর দরবার শরীফের পশ্চিম ও উত্তর দিকে সাধারণ লোকজনের চলার জন্য এলজিইডি ২০১৩-১৪ সালে একটি পাকা সড়ক তৈরি করে। সেই সড়কে আমার ও চুন্নুর জমি রয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে চুন্নু ভাড়াটে গুন্ডা বাহিনী দিয়ে সড়কটির পিচসহ খোয়া তুলতে থাকে, তখন আমার লোকজন বাধা দিলে সংঘর্ষ বাধে।

সৈয়দ শাহ নুরে আক্তার হোসেন চুন্নু বলেন, ঘটনাটি আমাদের পারিবারিক বিষয়।

নড়িয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম মঞ্জুরুল হক আকন্দ বলেন, শরীয়তপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালত থেকে সুরেশ্বর দরবারের কামাল ও চুন্নুর জমির দখল বুঝিয়ে দেয়ার জন্য গেলে দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংষর্ষ বাধে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনতে ২৪ রাউন্ড রাবার গুলি ছোড়ে।

ছগির হোসেন/আরএআর/এমকেএইচ

আপনার মতামত লিখুন :