মায়ের শত্রুরা ঝাঁপিয়ে পড়ল মেয়ের ওপর

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ০৬:৩৯ পিএম, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯
ফাইল ছবি

মাদক বেচাবিক্রি নিয়ে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজার পৌরসভার ফদনার ডেইলের মো. ইলিয়াছের স্ত্রী রোজিনা বেগমের সঙ্গে প্রতিবেশী রফিকের স্ত্রী সাজেদা সাজুর বিরোধ চলে আসছে।

এ শত্রুতার প্রতিশোধ নিতে রোজিনার ছোট মেয়ে সাদিয়া সুলতানা নুরীকে (৯) অপহরণ করে পাশবিক নির্যাতন চালিয়েছে সাজু ও তার সঙ্গীরা।

শুক্রবার রাতে সাজুর সহযোগী কক্সবাজার পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের ফদনার ডেইল গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে মাছন বৈদ্যর বাড়িতে নিয়ে নুরীকে নির্যাতন চালানো হয়।

আহত শিশু স্থানীয় কক্সন মাল্টিমিডিয়া স্কুলের ৪র্থ শ্রেণির ছাত্রী নূরী জানায়, প্রতিবেশী রহমানের বিয়ে বাড়ি থেকে আসার পথে সাজু অ্যান্টি আমার হাত ধরে মাছন বৈদ্যর বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে তারা দু'জনসহ সাজুর স্বামী রফিক আমার মুখ বেঁধে প্লাস্টিকের স্প্রিং দিয়ে মারধর ও চামচ দিয়ে আগুনের ছ্যাকা দেয়। এক পর্যায়ে আবারও তারা চামচ গরম করতে গেলে মাছন বৈদ্যর স্ত্রী আমাকে পালিয়ে আসতে সাহায্য করে। তখন আমি দৌড়ে রাস্তায় এসে চিৎকার শুরু করি। আমার চিৎকারে এলাকাবাসী এগিয়ে আসে।

উদ্ধারকারী আরজু নামের এক কলেজছাত্র বলেন, চিৎকার শুনে আমরা বায়তুর মামুন জামে মসজিদের সামনে নুরীকে পড়ে থাকতে দেখি। সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে তার বাড়িতে ও পরে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করি।

স্থানীয়রা জানান, মাদক চোরাচালান, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ওই দুই গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে শত্রুতা চলে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় উভয়পক্ষ গত ১০ দিনে কক্সবাজার সদর থানার হামলার অভিযোগ এনে পালটাপাল্টি মামলাও করেছে। একটি মামলায় রোজিনা গ্রেফতার হয়। জামিনে বের হয়ে তিনিও একটি মামলা করায় প্রতিপক্ষের লোকজন তার শিশুর ওপর নির্যাতন চালিয়েছে।

আহতের মা রোজিনা আক্তার বলেন, তার মামলার আসামি সাজেদা বেগম ও তার সহযোগীরা তার মেয়ে সাদিয়া সুলতানা নুরীকে বেঁধে রেখে মারধর করে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী এস.আই রাজিব পোদ্দার বলেন, নুরীকে অমানবিক ও পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি নির্যাতন চালিয়েছে মাছন বেদ্য, আবছার ও আরও কয়েকজন।

তবে অভিযুক্ত মাছন বৈদ্য বলেন, ১৮ ফেব্রুয়ারি রোজিনা বাদী হয়ে আমাদের নামে একটি মিথ্যা মামলা করে। সেই থেকে আমরা এলাকাছাড়া। গতকাল রাতের ঘটনার সময় আমরা খাদ্য গুদাম এলাকায় ছিলাম যা এলাকা থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার দূরে। সেখানে থেকেই আমরা জানতে পারি রোজিনা তার ছোট মেয়েকে মারধর করে। নিজের নিষ্পাপ শিশুকে মারধর করে আমাদের ফাঁসাতেই রোজিনা পরিকল্পিতভাবেই এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, রোজিনা ইয়াবা কারবারী। ইয়াবা কারবারে বাধা দেয়াটাই আমাদের অপরাধ। সেই কারণে রোজিনা আমাদের ফাঁসাতে এমন জঘন্য কাজ করেছে।

কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের ওসি ফরিদ উদ্দিন খন্দকার বলেন, শিশুটিকে আমি দেখেছি। তার ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।

সায়ীদ আলমগীর/এমএএস/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।