শিক্ষাগুরুর শরীরে ড্রেনের ময়লা!

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নরসিংদী
প্রকাশিত: ০৭:১৭ পিএম, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

নরসিংদী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। ওই সময় মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা অধ্যক্ষ ড. আনোয়ারুল ইসলামের ওপর ড্রেনের ময়লা নিক্ষেপ করেন। চেয়ার ও গ্লাস ছুড়ে মেরে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিতও করা হয় তাকে।

আজ শনিবার দুপুরে দিকে কলেজের অধ্যক্ষের কক্ষে এই ঘটনা ঘটে। কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তুলে দীর্ঘ ৫ মাস যাবত তাকে কলেজে যেতে বাধা দিচ্ছিল ছাত্রলীগের নেতৃত্বাধীন সাধারণ ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ। এরই মধ্যে হামলার ঘটনা ঘটল।

কলেজের অধ্যক্ষ ড. আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, ছাত্রনেতাদের বাধার মুখে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত পাঁচ মাস যাবত তিনি বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে অবহিত করে ঢাকায় থেকে কলেজের কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন। গত ২১ ফেব্রুয়ারি কলেজের শহীদ মিনার স্থানীয় সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম হীরুর উপস্থিতিতে তিনি শহীদদের পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরই মধ্যে স্থানীয় সাংসদ তাকে কলেজে এসে কলেজ পরিচালনার নির্দেশ দিলে বৃহস্পতিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে তিনি কলেজ আসেন।

দুপুরে ৫-৬ জনের একদল দুর্বৃত্ত মুখোশ ও ক্যাপ পরে অধ্যক্ষের কক্ষে প্রবেশ করে তাকে অশালীনভাষায় গালাগালি করতে থাকেন। এর একপর্যায়ে তারা সঙ্গে আনা এক বালতি ড্রেনের ময়লা পানি অধ্যক্ষের দিকে ছুড়ে মারেন। ওই সময় চেয়ার ও গ্লাসও অধ্যক্ষের দিকে ছুড়ে মারা হয়। এতে তিনি কপালে আঘাত প্রাপ্ত হন। পরে হামলাকারীরা দ্রুত সেখান থেকে সটকে পড়েন।

খবর পেয়ে নরসিংদী সদর মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এই ঘটনায় কলেজের শিক্ষক ও ছাত্রদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নরসিংদী সরকারি কলেজের দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, ‘দুর্বৃত্তরা শুধু অধ্যক্ষকেই অপমান করেননি তারা সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের অপমানিত করেছেন।’

শিক্ষককে অসম্মানের ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এ ঘটনার বিচার না হলে জাতির মেরুদণ্ড ভেঙ্গে পড়বে। তাই দ্রুত এর বিচার করা উচিত।’

নরসিংদী সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান বলেন, ‘অধ্যক্ষের ওপর হামলার ঘটনায় ভিডিও ফুটেজসহ সকল ধরনের আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে সকল কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।’

সঞ্জিত সাহা/এসআর/এমকেএইচ