হাসপাতালে মায়ের লাশ দেখতে এসে পিটুনি খেলো ছেলে


প্রকাশিত: ০৩:৩৫ পিএম, ৩০ আগস্ট ২০১৫

মায়ের লাশ দেখতে এসে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের ওয়ার্ড বয়রা ছেলে জেলা প্রশাসনের কর্মচারী মামুনুর রহমান খানকে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করেছে।

রোববার সকাল ৯টার দিকে হাসপাতালের ভেতরে এ ঘটনা ঘটেছে।

খবর পেয়ে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা হাসপাতালে ছুটে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। মামুনুর রহমান খান জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সাধারণ শাখার অফিস সহকারী। তাদের বাড়ি শহরতলীর বাড়াদী স্কুল পাড়ায়। তার বাবার নাম মৃত আব্দুল করিম খান।

মামুনুর জানায়, তার মা রাবেয়া খাতুনের বুকে প্রচন্ড ব্যথা অনুভূত হলে আত্মীয়-স্বজনরা রোববার সকাল ৮টার তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের ৩ নং ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। ভর্তি হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান। খবর পেয়ে মায়ের লাশ দেখার জন্য সকাল সোয়া ৯ টার দিকে তিনি কুষ্টিয়া হাসপাতালে যান।

মূলগেট দিয়ে ঢুকে হাসপাতালের পুরাতন গেট দিয়ে ৩ নং ওয়ার্ডের দিকে যেতে গেলে হাসপাতালের ওয়ার্ড বয় কাম বাবুর্চি আব্দুর রশিদ তাকে বাধা দেয়। বলে এদিক দিয়ে যাওয়া যাবেনা, অন্যদিক দিয়ে ঘুরে যেতে হবে। এসময় মামুন তার মা মারা গেছেন এবং তিনি জেলা প্রশাসনের একজন স্টাফ বলে পরিচয় দিলেও আব্দুর রশিদ তার সঙ্গে অসাদাচরণ করেন। এনিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে আব্দুর রশিদ, অনিলসহ হাসপাতালের ৮-১০ জন স্টাফ মুহূর্তের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌছে মামুনকে বেধড়ক মারপিট করে।

খবর পেয়ে হাসপাতাল এলাকার ক্যাম্প পুলিশের ইনচার্জ ঘটনাস্থলে পৌছে মামুনকে নিয়ে এসে ক্যাম্পে আটক রাখে। মামুন জানান, হাসপাতালের স্টাফরা পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জের সামনেই মারপিট করতে থাকে।

খবর পেয়ে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার শাখার উপ-পরিচালক আনার কলি মাহবুব, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোদেজা বেগম, ম্যাজিস্ট্রেট এস এম জামালসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা হাসপাতালে গিয়ে তাকে মুক্ত করে হাসপাতালের আরএমও ডা. তাপস কুমার সরকারের রুমে নিয়ে আসেন।

এ ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।

আল-মামুন সাগর/এমএএস/এমআরআই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।