কলেজছাত্র আল-আমিনও তাহলে হিরো

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কুড়িগ্রাম
প্রকাশিত: ০৮:৫৬ পিএম, ৩১ মার্চ ২০১৯

ট্রেন দুর্ঘটনারোধে দীর্ঘ ৪ বছর ধরে স্বেচ্ছায় গেটকিপারের দায়িত্ব পালন করছেন কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার কলেজছাত্র আল-আমিন।

তিনি রাজারহাট মীর ইসমাইল হোসেন সরকারি কলেজের বিএম শাখায় এইচএসসি প্রথম বর্ষের ছাত্র এবং মেকুরটারী গ্রামের চা বিক্রেতা আক্কাস আলীর ছেলে। লেখাপড়ার পাশাপাশি বাবার সঙ্গে চা বিক্রি করে সংসার চালান আল-আমিন। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন ট্রেন চলাচলের সময় গেট ওঠানামার।

কোনো রকমের পারিশ্রমিক ছাড়াই চার বছর ধরে স্কুলগামী শিক্ষার্থীসহ পথচারীদের নিরাপদ রাখার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।

এলাকাবাসী জানান, তিস্তা-রমনা রেললাইনের মধ্যবর্তী রাজারহাট রেলস্টেশন পৌঁছানোর আগে রাজারহাট সরকারি বালিকা বিদ্যালয়, রাজারহাট আদর্শ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাজারহাট কৃষি ডিপ্লোমা কলেজ হয়ে রাজারহাট আদর্শ বিএল উচ্চ বিদ্যালয়ের সংযোগ সড়কে রেললাইন পারাপারে রেলওয়ে ডিপার্টমেন্টের ট্রাফিক বিভাগীয় আওতাধীন গেট নং-টি/১৪জি রয়েছে। এটির আওতায় দুর্ঘটনা এড়াতে গতিরোধক ব্যারিয়ার ও লেবেল ক্রসিংয়ের ঘর তৈরি করা হয়। কিন্তু গেটটিতে গেটকিপার না থাকায় যাতায়াতে ঝুঁকিপূর্ণ দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দেয়ায় কলেজছাত্র আল-আমিন চার বছর ধরে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে সেখানে দায়িত্ব পালনের ভার কাঁধে তুলে নেন।

আল-আমিনের সঙ্গে তিস্তা, চায়না বাজার, কাশেম বাজার, সিঙ্গেরডাবরী, টগরাইহাট, রাজারহাট (পূর্ব) গেটকিপারদের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রয়েছে। তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতিনিয়ত ট্রেন আসার আগেই গতিরোধক ব্যারিয়ার সিগন্যাল ফেলে পথচারীদের যানমাল রক্ষা করে যাচ্ছেন। অথচ তার কাছে রেলওয়ে ডিপার্টমেন্টের লাল-সবুজের সিগন্যাল পতাকা নেই। ট্রেন দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা করার জন্য নেই কোনো সিগন্যাল বাঁশি।

রোববার সকালে কথা হয় আল-আমিনের সঙ্গে। তিনি জানান, চায়ের দোকানের পাশাপাশি চার বছর ধরে এ কাজ করছি। পড়ালেখাও করছি।

দুই বছর আগে রেল ডিপার্টমেন্টের আওতায় ট্রাফিক বিভাগের আওতাধীন টি/১৪জি গেটে দুর্ঘটনা এড়াতে গতিরোধক ব্যারিয়ার ও লেবেল ক্রসিংয়ের ঘর তৈরি করা হয়। কিন্তু কোনো গেটকিপার না থাকায় ঠিকাদার আল-আমিনের হাতে ওই লেবেল ক্রসিং ঘর ও ব্যারিয়ারের চাবি তুলে দেন। এরপর থেকে তিনি নিয়মিত গেটকিপারের দায়িত্ব পালন করছেন।

রাজারহাট রেলস্টেশনের মাস্টার মাইদুল ইসলাম জানান, শুনেছি ট্রেন যাওয়া আসার সময় আল-আমিন নামে এক ছেলে ওই গেটে ব্যারিয়ার ওঠানামা করে।

রাজারহাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. এনামুল হক জানান, আল-আমিনকে চার বছর ধরে গেটকিপারের দায়িত্ব পালন করতে দেখে অবাক হই। চাকরিটা তার স্থায়ী হলে পরিবারের অভাব দূর হতো।

নাজমুল/এমএএস/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।