মামলা না নেয়ার কারণ বললেন ওসি
ঢাকায় কর্মরত বেসরকারি চাকরিজীবী ফজলুল করিমের গ্রামের বাড়ি সতাক্ষীরার শ্যামনগরের বসতবাড়িতে হামলার ঘটনায় অবশেষে মামলা নিয়েছেন পুলিশের ওসি হাবিল হোসেন।
তবে মামলার পরের দিন ফের ওই বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। ওসিকে হামলার বিয়য়ে অবহিত করলে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। এ ঘটনায় কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।
উচ্চ আদালতে রিটকারীর আইনজীবী মো. শামসুল হক (কাঞ্চন) বলেন, রিটের পর ওসি মামলাটি এজহারভুক্ত করায় বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। তবে আগে কেন মামলাটি নেয়া হয়নি সেজন্য আদালতকে মৌখিকভাবে বলব, ওসি হাবিল হোসেন যেন স্বশরীরে হাজির হয়ে এর কারণ ব্যাখ্যা করেন।
রিটকারী আইনজীবীর সহকারী অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির বলেন, মঙ্গলবার দুপুর ২টায় ওসি আবুল হোসেন রিটকারী মো. ফজলুর করিমের বাবা মো. আবুল কাশেমকে ফোনে থানায় যাওয়ার জন্য বলেন। পরে রমজান নগর ইউপি চেয়ারম্যান বাদীকে নিয়ে থানায় গেলে অভিযোগটি মামলা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। মামলার পর বুধবার এজহারভুক্ত আসামি ইউসুফ সরদার, রফিকুল ইসলাম ও আলমগাজী ফের তাদের বাড়িতে হামলা করে।
এ ব্যাপারে ওসি হাবিল হোসেন বলেন, ফজলুল করিমের বাবা আবুল কাশেম সরদারের অভিযোগে ২ এপ্রিল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় এজাহার নামীয় ১০ জনসহ মোট ১৫ জনকে আসামি করে ডাকাতির মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। মামলা নং-৩।
মামলার অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন- ইউসুফ, আয়ুব হোসেন, শমসের, রেজাউল, নাদির সরদার, রফিসহ ১৫ জন। এই আসামির মধ্যে আবুল কাশেম সরদারের একজন আপন ভাই এবং একজন সৎ ভাই রয়েছে।
এর আগে মামলা না নেয়ার ব্যাপারে ওসি বলেন, ফজলুল করিমের বাবা আবুল কাশেম সরদারের আপন ভাই ও সৎ ভাইদের সঙ্গে জমি-জমা নিয়ে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি রাতে জমি-জমা নিয়ে মারামারি এবং ভাঙচুরের ঘটনায় তিনি শ্যামনগর থানায় অভিযোগ দেন। বলেন তাদের বাড়িতে ডাকাতি হয়েছে। আমরা তদন্ত সাপেক্ষে মামলা নিতে চেয়েছিলাম। জমিজমা নিয়ে দ্বন্দ্ব থেকে তারা মিথ্যা ডাকাতির মামলা করতে চেয়েছিলেন। সেজন্য তাদেরকে প্রাথমিকভাবে মামলা না নিয়ে চেয়ারম্যানের সঙ্গে বসে মীমাংসা করে নিতে বলা হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, ওই রাতে ফজলুল করিম সাহেব আমাকে ফোন করা মাত্র আমি এসআই মনিরুজ্জামানকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছিলাম। পরের দিনও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করে। কিন্তু বাদীদের যে অভিযোগ ছিল সেটা সত্য ছিল না। সে কারণে মামলা নেয়া হয়নি। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হচ্ছে সেটা সঠিক নয়।
আকরামুল ইসলাম/এফএ/জেআইএম