চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরলেন সুবর্ণচরে নির্যাতিতা সেই নারী

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নোয়াখালী
প্রকাশিত: ১২:০২ এএম, ০৯ এপ্রিল ২০১৯

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে ধর্ষণের শিকার হয়ে চিকিৎসাধীন থাকা ছয় সন্তানের জননীকে ছুটি দিয়েছে হাসপাতাল। এক সপ্তাহ চিকিৎসা শেষে সোমবার বিকেলে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল ছাড়েন তিনি।

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা সৈয়দ মহিউদ্দিন আব্দুল আজিম বলেন, ইতোমধ্যে নির্যাতিতার সকল শারীরিক পরীক্ষা শেষ করে রিপোর্ট পুলিশ সুপার কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থার বেশ উন্নতি হয়েছে। তিনি বর্তমানে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকায় হাসপাতাল থেকে ছুটি দেয়া হয়েছে। পরবর্তীতে কোনো সমস্যা দেখা দিলে তাকে আবার এসে চিকিৎসা নেয়ার জন্যও বলা হয়েছে।

এদিকে নির্যাতিতার স্বামী ও মামলার বাদী মো. শাহাজাহান জানান, এখনও তাদের মনে ভয় ও শঙ্কা কাজ করছে। এ ঘটনার পর তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে তিনি গত দুইদিন আগে চরজাব্বার থানায় একটি সাধারন জিডি। জিডি করার পরপরই থানার ওসি মো. শাহেদ উদ্দিন তার গ্রামের বাড়ি পরিদর্শন করেছেন এবং কারা হুমকি দিয়েছে তাদের পরিচয় ও ঠিকানা তিনি লিখে এনেছেন। তিনি পুলিশ সুপারের সঙ্গেও দেখা করেছেন। পুলিশ সুপার আশ্বস্ত করেছেন চিকিৎসা শেষে বাড়ি গেলে আর কোনো সমস্যা হবে না।

এদিকে নির্যাতিতা ওই নারীর হাসপাতাল থেকে ছুটি পাওয়ার কথা শুনে তাকে দেখতে যান জেলা প্রশাসক তন্ময় দাস। তিনি নির্যাতিতার মুখ থেকে সব কথা শোনেন এবং তার পরিবারের সদস্যদের সকল প্রকার নিরাপত্তা প্রদানের আশ্বাস দেন।

গত ৩১ মার্চ চতুর্থ ধাপে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দিন রাতে স্থানীয় চরজব্বার বাজার থেকে স্বামীর সঙ্গে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরাকালে স্থানীয় ইউসুফ মাঝি ও বেচু মাঝির নেতৃত্বে ১০-১২ জন তাদের গতিরোধ করে মারধর করে। পরে স্বামীকে এক পাশে আটকে রেখে গৃহবধূকে পাশের কলাবাগানে নিয়ে গণধর্ষণ করা হয়।

স্থানীয়দের সহযোগিতায় ওই রাতে তাদের নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরের দিন নির্যাতিতার স্বামী আটজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরও চারজনসহ মোট ১২ জনকে আসামি করে চরজব্বার থানায় মামলা করেন।

পুলিশ এখন পর্যন্ত এ মামলায় পাঁচ আসামিকে গ্রেফতার করেছে এবং তিনজন স্বেচ্চায় আদালতে হাজির হয়ে জামিন চাইল আদালত তাদের জামিন না মঞ্জুর করে জেলহাজতে প্রেরণ করেন।

মিজানুর রহমান/বিএ