সুরমা-কুশিয়ারার ভাঙনে বিলীন হচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সুনামগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৪:১৭ পিএম, ২০ এপ্রিল ২০১৯

সুনামগঞ্জের সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর ভাঙনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। কৃষি জমি হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে এলাকার মানুষ। নদী ভাঙনরোধে দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়া হলে উপজেলার প্রায় ২০ হাজার মানুষ নিঃস্ব হয়ে যাবে বলে ধারণা এলাকাবাসীর।

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার ও জগন্নাথপুর উপজেলা ঘুরে দেখা যায়, সুরমা নদী বেষ্টিত জনপদ দোয়ারাবাজার উপজেলা। ভাঙনের কারণে উপজেলার মংলারগাঁও, মাঝেরগাঁও, পূর্ব মাছিমপুর, পশ্চিম মাছিমপুরসহ ৭টি গ্রামের অধিকাংশ ঘর-বাড়ি দিনদিন নদীগর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে। সঙ্গে ভাঙনের কবলে পড়েছে বিদ্যালয়, মসজিদ ও মাদরাসা। হুমকির মুখে রয়েছে উপজেলা পরিষদ কার্যালয়সহ দোয়রাবাজারের সঙ্গে সিলেটের সংযোগ সড়কটিও।

Sunamganj2

অন্যদিকে, জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নে কুশিয়ারার ভাঙনে ৮টি গ্রামের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দিরসহ শতাধিক বসতবাড়ি বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের মুখে আরও ৪ থেকে ৫টি গ্রামের স্থাপনা। তারপরও কুশিয়ারা নদীর ভাঙনরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গৃহীত হয়নি। নদী ভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে অনেকেই এখন মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

জগন্নাথপুরের কুশিয়ারা নদী পাড়ের বাসিন্দা আলী মিয়া বলেন, বিগত ৫/৭ বছর ধরে নদী ভাঙনের কবলে পড়ে গ্রামের পর গ্রাম ভেঙে যাচ্ছে। বিলীন হয়েছে স্কুল, মসজিদ, ফসলি জমিসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।

দোয়ারাবাজার উপজেলার ব্যবসায়ী ফরিদ হোসন জানান, কয়েকবছর আগে যেখানে দোকানপাট ছিল, সব দোকান এখন নদী গর্ভে চলে গেছে। নদী ভাঙনের কবলে বাড়ি-ঘরও চলে গেছে।

Sunamganj2

যুবক রফিক আহমেদ বলেন, যেখানে কিছুদিন আগে খেলার মাঠ ছিল সেই মাঠ এখন নদীগর্ভে। আগামী বর্ষার আগে যদি কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়া হয় তাহলে আরও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা চলে যাওয়ার শঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খুশি মোহন সরকার জাগো নিউজকে বলেন, নদী ভাঙনের ফলে অনেক ঘর-বাড়ি বিলীন হয়ে গেছে। দোয়ারাবাজার ও জগন্নাথপুর উপজেলার ভাঙনরোধে একটি ডিপিপি প্রণয়ন হাতে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এটি পরিকল্পনা কমিশনে রয়েছে। অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু হয়ে যাবে।

এমএএস/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :