নিয়মবহির্ভূত ফি আদায়ে শিক্ষকদের কাণ্ড

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি চুয়াডাঙ্গা
প্রকাশিত: ১০:২৩ এএম, ২৪ এপ্রিল ২০১৯

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে সরকারের নির্দেশনা উপেক্ষা করে প্রথম সাময়ীক পরীক্ষার নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি আদায় করা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।

অভিযোগ পেয়ে ওই বিদ্যালয়ের পরীক্ষা বাতিল করার এবং শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফির নামে নেয়া টাকা ফেরত দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক গোপল চন্দ্র দাস।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি কল্পে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা ও বার্ষিক পরীক্ষা গ্রহণ করবে। অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা ২২ জুন থেকে ৪ জুলাই এবং বার্ষিক পরীক্ষা ২৭ নভেম্বর থেকে ১১ ডিসেম্বর গ্রহণ করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই বাইরে থেকে প্রশ্নপত্র ক্রয় করে পরীক্ষা নেয়া যাবে না।

কিন্তু শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এ নির্দেশনার প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ৬ষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ২৩ এপ্রিল থেকে প্রথম সাময়ীক পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এক্ষেত্রে পরীক্ষার ফি বাবদ ৬ষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির প্রতিজন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ২০০ টাকা, অষ্টম শ্রেণির প্রতিজন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ২২০ টাকা এবং নবম ও দশম শ্রেণির প্রতিজন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ২৫০ টাকা হারে আদায় করা হয় বলে জানান শিক্ষকরা।

মঙ্গলবার ওই বিদ্যালয়ে সরজমিনে গেলে নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলে, বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জোর করে প্রথম সাময়ীক পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন এবং দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পরীক্ষার ফি বাবদ ৪৯০ টাকা হারে আদায় করা হয়েছে। এখন বিদ্যালয়ে এসে জানতে পারছি উপরের নির্দেশে পরীক্ষা বন্ধ করা হয়েছে এবং ফির টাকা ফেরত দেয়া হবে। তবে এখনো পর্যন্ত টাকা ফেরত পাইনি।

Chuadanga

অপরদিকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে জানায়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম দিকে শিক্ষকরা তাদের হাতে বুকলিস্ট ধরিয়ে দিয়ে গাইড বই কিনতে বাধ্য করেছে।

এ ব্যাপারে ওই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রওশন আরা বলেন, আজ (মঙ্গলবার) থেকে পূর্বনির্ধারিত পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত থাকলেও তা বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা ফির টাকা ফেরত দেয়া হচ্ছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল বারী বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাহাত মান্নান বলেন, বিষয়টি জানার পর পরীক্ষা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছি এবং ফির টাকা ফেরত দেয়ারও নির্দেশ দিয়েছি। যদি ফির টাকা ফেরত না দেয় তাহলে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জেলা প্রশাসক গোপাল চন্দ্র দাস জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর পরীক্ষা বন্ধ এবং ফির টাকা ফেরত দেয়ার জন্য শিক্ষকদের বলা হয়েছে।

সালাউদ্দীন কাজল/এফএ/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :