হায়রে বাবা-মা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কুড়িগ্রাম
প্রকাশিত: ০৮:৫৭ পিএম, ২৪ এপ্রিল ২০১৯

জন্মদাতা বাবার হাতে নির্মম নির্যাতনের শিকার শিশু আশামণির খোঁজখবর নিতে কুড়িগ্রামের উলিপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন।

বুধবার বিকেলে সিভিল সার্জন ডা. এস এম আমিনুল আসলাম, কুড়িগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি আহসান হাবীব নীলু, উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র সরকার ও সাংবাদিক পরিমল মজুমদারকে সঙ্গে নিয়ে আশামণির খোঁজখবর নেন জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন। এ সময় নগদ অর্থ, নতুন জামা-কাপড়সহ শিশুটির উন্নত চিকিৎসার দায়িত্ব নেন জেলা প্রশাসক।

একই সঙ্গে নির্যাতনের শিকার শিশু আশামণির নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে সঠিক এবং নিরাপদ অভিভাবকের হাতে তুলে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। আলোচিত শিশু আশামণির ঘটনাটি কুড়িগ্রামের সবার মুখে মুখে। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করছেন সবাই। খবর পেয়ে শিশুটিকে দেখতে আসেন জেলা প্রশাসক।

এদিকে নির্যাতনের ঘটনায় বাবা আশরাফুল আলমের বিরুদ্ধে শিশুটির পালিত বাবা ইদ্রিস আলী উলিপুর থানায় মামলা করেছেন। পরে আশরাফুল আলমকে গ্রেফতার করে বুধবার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠায় পুলিশ।

kurigram

ইদ্রিস আলী বলেন, শিশুটিকে তার বাবা-মা ৪০ দিন বয়সে আমার স্ত্রীর কাছে রেখে ঢাকায় পোশাক কারখানায় কাজে যান। টানা সাড়ে তিন বছর শিশুটিকে লালন-পালন করেছি আমরা। ছয় মাস আগে বাড়িতে ফিরে এসে শিশুটিকে নিয়ে যান তার বাবা-মা। কিন্তু শিশুটি আমাদের বাবা-মা হিসেবে জানতো এবং ডাকতো। প্রকৃত বাবা-মায়ের কাছে গেলেও তাদের বাবা-মা বলে ডাকতো না। আমাদের কাছে আসার জন্য কান্না করতো শিশুটি। ফলে শিশুটির ওপর নির্মম নির্যাতন শুরু করে বাবা-মা। খাবার না দিয়ে কখনো হাত-পা বেঁধে পেটানো হতো। হাত বেঁধে পুকুরের পানিতে দাঁড় করে রাখা হতো। এমনকি মাটিতে গর্ত করেও রাখা হতো। সোমবারের নির্যাতনে শিশুটি জ্ঞান হারালে উলিপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

উলিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র সরকার বলেন, শিশুটির পুরো শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে। শিশুটি মানসিকভাবে ট্রমায় ভুগছে। বুধবার জেলা প্রশাসক পরিদর্শন করে তার উন্নত চিকিৎসার জন্য কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুড়িগ্রাম হাসপাতালে পাঠানো হবে।

উলিপুর থানা পুলিশের ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, খবর পেয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শিশুটিকে নির্মমভাবে নির্যাতন করায় তার বাবাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটির মা ফাতেমা বেগমের চাচা বাদী হয়ে মামলা করেন। শিশুটির বাবা আশরাফুলকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন বলেন, এরকম নির্দয় বাবা-মা হতে পারে, তা আশামনির শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন দেখে বুঝতে পারলাম। আশামনির মতো একটি ফুটফুটে শিশুকে দেখলে যে কারও মায়া লাগার কথা। জেলা প্রশাসন আশামনির চিকিৎসাসহ অন্যান্য বিষয় দেখভাল করবে। একই সঙ্গে আশামনির নিরাপদ ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নতুন অভিভাবকের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

নাজমুল/এএম/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :