খাল খননে ফাঁকি, স্কেভেটর মেশিন রেখে দিলো গ্রামবাসী
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বাঁশদহা ইউনিয়নে কাওনডাঙ্গা এলাকায় খাল খননকাজে অনিয়মের অভিযোগে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্কেভেটর মেশিন আটকে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
১০ দিন আগে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শেষ হয়ে গেছে মর্মে ঘোষণা দিয়ে স্কেভেটর মেশিন নিয়ে চলে যাওয়ার চেষ্টাকালে মেশিনটি আটক করা হয়।
বাঁশদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এসএম মোশারফ হোসেন বলেন, চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি ক্ষুদ্র সেচ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কাওনডাঙ্গা সেতু থেকে দুই কিলোমিটার খাল খননের কাজ শুরু হয়। ১৬ লাখ ৬ হাজার ২০০ টাকার কাজটি পান ঠিকাদার ফিরোজ মোল্লা। তিনি বাগেরহাটের মোল্লারহাট এলাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আকাশ এন্টার প্রাইজের মালিক।
চেয়ারম্যান এসএম মোশারফ হোসেন আরও বলেন, কার্যাদেশে অনুযায়ী ওপরে ৪০ ফুট, তলদেশে ১৪ ফুট ও পাঁচ ফুট গভীর করে খনন কাজটি সম্পন্ন হবে। তবে কার্যাদেশ অনুযায়ী কোনো কাজই করেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। দুই কিলোমিটারের মধ্যে সর্বোচ্চ আধা কিলোমিটার খননকাজ করা হয়েছে। এছাড়া যেতটুকু খননকাজ করা হয়েছে ততটুকু নামমাত্র করা হয়েছে। এক কথায় কোনো খননকাজই হয়নি। এরই মধ্যে কাজ শেষ হয়ে গেছে বলে ঘোষণা দিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান খননকাজে ব্যবহৃত স্কেভেটর মেশিন নিয়ে চলে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় গ্রামবাসী মেশিনটি আটকে দেয়। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে খননকাজে ফাঁকির বিষয়টি দেখেছি। বর্তমানে ওই অবস্থায় রয়েছে। এখনো কোনো সমাধান হয়নি।
বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন বলেন, বিষয়টি কাউকে জানানো হয়নি। মেশিনটি কামানডাঙ্গা গড়িয়াডাঙ্গা ব্রিজের পাশে আটক রাখা হয়েছে। খননকাজ বন্ধ রয়েছে।
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক ফিরোজ মোল্লা বলেন, মেশিন নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তাই মেরামতের জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। খননকাজ শেষ হয়নি। কার্যাদেশের মেয়াদ এখনো রয়েছে। খননকাজ আবার শুরু করা হবে।
এ ব্যাপারে প্রকল্পের উপ-সহকারী প্রকৌশলী চিন্ময় চক্রবর্তী বলেন, এখনো খননকাজ চালানোর সময় আছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে শতভাগ কাজ শেষ করতে হবে।
আকরামুল ইসলাম/এএম/এমকেএইচ