জয়পুরহাটে ডায়রিয়ার প্রকোপ, হাসপাতালে জায়গা নেই

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি জয়পুরহাট
প্রকাশিত: ০৮:৫৫ পিএম, ২৮ এপ্রিল ২০১৯

জয়পুরহাটে প্রচণ্ড তাপদাহ আর ভ্যাপসা গরমে হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে রোটা ভাইরাস জনিত ডায়রিয়ার প্রকোপ। আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেগুলোতে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গড়ে তিনগুন রোগী ভর্তি হচ্ছেন প্রতিদিন। এসব রোগীকে সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসকদের।

ডায়রিয়ার জন্য শুধু জেলা আধুনিক হাসপাতালে আলাদা ২৫টি বেড থাকলেও গড়ে প্রতিদিন সেখানে ভর্তি হচ্ছেন ২৫ থেকে ৩০ জন আক্রান্ত শিশু ও বয়স্ক রোগী। এছাড়াও চিকিৎসা নিতে ৪টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেসহ বিভিন্ন ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও কনসালটেশন সেন্টারেও আক্রান্ত রোগীরা সেবা নিতে ছুটছেন। এদের মধ্যে বেশির ভাগ শিশু ও বয়স্ক রোগী রয়েছে।

হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় ওয়ার্ডে জায়গার সংকুলান না থাকায় মেঝেতে জায়গা দিয়ে তাদের চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে।

সরেজমিনে রোববার হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বৈরি আবহাওয়া ও প্রখর রোদ, ধুলোবালির পাশাপাশি, অপরিষ্কার, অপরিচ্ছন্নতা, ভ্যাপসা গরমের কারণে রোটা নামক ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বেশি ঘটে। গত এক সপ্তাহ থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ২১৫ জন রোগী এ রোগে আক্রান্ত হয়ে জয়পুরহাট জেলা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

Joypurhat-Diarhea

হাসপাতালে ভর্তি সদর উপজেলার রাঘবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির ছাত্রী রুহিনা বেগম জানায়, বৃহস্পতিবার স্কুল থেকে আসার পর জ্বর শুরু হয়। স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে গেলে তারা চিকিৎসা দেয়। কিন্ত দুইদিনেও বমি ও পাতলা পায়খানা ভালো না হওয়ায় আবারও চিকিৎসকের কাছে গেলে তারা হাসপাতালে ভর্তি হতে বললে আজ সকালে ভর্তি হই।

সদর উপজেলার ভিটি এলাকার শিল্পী বেগম জানান, গতকাল সকালে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। আমার পাতলা পায়খানা ও বমি বন্ধ হয়েছে। এখন ভালো আছি।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আবুল হোসেন জানান, রোটা ভাইরাল সংক্রান্ত ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব ঘটেছে আবহাওয়ার তারতম্যের পাশাপাশি অপরিস্কার অপরিচ্ছন্নতা, প্রচণ্ড তাপদাহ আর ভ্যাপসা গরমের কারণে। পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় মানুষের খাওয়ার জন্য বিশুদ্ধ পানির সংকট থেকে ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়ে যায় ব্যাপক হারে। বছরের এ সময়টা আবহাওয়ার তারতম্যের কারণে রোটা ভাইরাসের জন্য সহায়ক হিসেবে কাজ করে। যা অস্বাস্থ্যকর খাবার ও দুষিত পানির মাধ্যমে মানুষের দেহে প্রবেশ করে এ রোগের সৃষ্টি করে।

ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. রাশেদ মোবারক বলেন, অন্য সময়ের চেয়ে রোটা ভাইরাসের প্রকোপ বর্তমানে কিছুটা বেড়েছে। গোটা জেলাসহ আশ-পাশের বিভিন্ন জেলার আক্রান্ত রোগীরা জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসার কারণে এর সংখ্যা বেশি মনে হচ্ছে। তবে হাসপাতাল থেকে সঠিক চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে এবং বিষয়টি আমাদের নিয়ন্ত্রণেই আছে।

তিনি বলেন, খাওয়ার আগে ও পায়খানা থেকে আসার পর ভালো করে হাত পরিষ্কার করতে হবে, টিবওয়েলের পানি পান করতে হবে এবং পাতলা পায়খানার লক্ষণ দেখা দিলে নিকটস্থ কমিউনিটি ক্লিনিক যেতে বলা হয়েছে এবং অবস্থা গুরুতর হলে জেলা হাসপাতালে পাঠাতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে এ অবস্থা কেটে যাবে।

রাশেদুজ্জামান/এমএএস/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :