ঠাকুরগাঁওয়ে ইটভাটার বিষাক্ত গ্যাসে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ঠাকুরগাঁও
প্রকাশিত: ০৯:৩৬ পিএম, ০৯ মে ২০১৯

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়া থানার শালবাড়ি কশালগাঁও এলাকা ও আকচা ইউনিয়নে ইটভাটার বিষাক্ত গ্যাসের কারণে প্রায় ৮৫ একর জমির বোরো ধান নষ্ট হয়ে গেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা তাদের ভবিষৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, ইটভাটার বিষাক্ত গ্যাসের কারণে ধানের শীষ থাকলেও শীষে ধান নেই। এতে প্রায় শতাধিক চাষি হতাশ হয়ে পড়েছেন। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আকচা ও সালন্দর ইউনিয়নে অবস্থিত সামা ব্রিকস ও এম এস ব্রিকস এবং কশালগাঁও এলাকার এসআরএম ব্রিকস থেকে বিষাক্ত গ্যাস নির্গত হওয়ায় গ্যাসের তাপে প্রায় অর্ধ শতাধিক কৃষকের ধান, মরিচ, ভুট্টাসহ বোরো ফসলের মাঠ ঝলসে গেছে। খবর পেয়ে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করেছেন।

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলেন, বর্তমানে ধানের শীষ বের হয়েছে। ইটভাটার ধোঁয়ায় আশপাশের ফসলের ১৫-২০ ভাগ ক্ষতি হয়েছে। ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নামের তালিকা বিস্তারিত বর্ণনাসহ প্রস্তুতের কাজ চলছে। খুব অল্প সময়ের মধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে তালিকা দেয়া হবে।

এ বিষয়ে এসআরএম ব্রিকসের স্বত্বাধিকারী রাজু ইসলাম ও সামা ব্রিকসের স্বত্বাধিকারী হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।

Thakurgaon-Damage-1

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ধীরেণ, বিষ্টু, আমিন, হুমায়ুন কবীর, আজাদ আলী, আব্দুল আলী অভিযোগ করে বলেন, গত শুক্রবার ঘূর্ণিঝড় ফণী আসার কথা থাকায় আবহাওয়া মেঘলা ছিল। সেই রাতে ভাটার মালিক রাজু ইসলাম ভাটার গ্যাস ছেড়ে দেন। তিনি ভাবছিলেন সব দোষ ফণীর হবে। কিন্তু ফণীর কোনো প্রভাব এলাকায় দেখা না যাওয়ায় রাজুর পরিকল্পনা নষ্ট হয়েছে। আমরা স্পষ্টভাবে বুঝেতে পারছি রাজু ইসলামের ভাটার গ্যাসের কারণে ধান নষ্ট হয়ে গেছে। আমাদের ক্ষতির কথা তাকে বার বার বলার পরেও কোনো কাজ হচ্ছে না। ধার দেনা ও দোকানে বাকি করে ফসল উৎপাদন করেছি। ধান না পেলে পরিবার নিয়ে কী করবো।

তারা আরও বলেন, কিছুদিন আগেও আমানত কোল্ড স্টোরেজের অ্যামোনিয়া গ্যাস নির্গত হয়ে কুমড়া, লিচু, মরিচ ও ভুট্টা ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়। পূর্বের ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার আগেই আবার ইট ভাটার গরম বাতাসে দরিদ্র কৃষকদের প্রায় ৫০ একর জমির ধান ,লিচু, আম, ভুট্টা ও মরিচ ক্ষেত পুড়ে গেছে। আমরা অনেকে বাকিতে সার-বীজ নিয়ে চাষাবাদ করেছি। ফসল বিক্রি করে সন্তানের লেখাপড়া ও দোকানের বাকি পরিশোধ করতাম। এখন দোকানের বাকি আর এনজিওর কিস্তি কীভাবে পরিশোধ করবো এই নিয়ে আমরা চিন্তিত।

ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক আফতাব হোসেন জানান, রুহিয়া থানার শালবাড়ি কশালগাঁও এলাকার একটি ও আকচা ইউনিয়নের দুটি ইটভাটার কারণে ফসলের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে আমরা তার সত্যতা পেয়েছি। আমাদের কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা ও ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে কাজ করছেন। তদন্ত কমিটি কৃষকদের তালিকা তৈরি করে তা জেলা প্রশাসক বরাবর প্রেরণ করে কৃষকদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করবে।

রবিউল এহসান রিপন/আরএআর/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।