গৃহকর্মী বলল আমার সন্তানের বাবা শিক্ষা কর্মকর্তা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি জামালপুর
প্রকাশিত: ০৮:৫২ পিএম, ১১ মে ২০১৯

জামালপুরে নিজের বাসার কাজের মেয়েকে দিনের পর দিন ধর্ষণ করেছেন এক সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা। এতে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে গৃহকর্মী। পরে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় গৃহকর্মীকে অন্যত্র বিয়ে দেন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মাজেদুল ইসলাম। শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে গৃহকর্মীর মৃত সন্তান প্রসব হলে ঘটনাটি ফাঁস হয়ে যায়। সেই সঙ্গে বিষয়টি সর্বত্র জানাজানি হয়।

বিষয়টি সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ার পর বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এলাকাবাসী। এ অবস্থায় শনিবার দুপুরে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মাজেদুল ইসলামকে গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেন স্থানীয়রা।

জামালপুর সদর উপজেলার রঘুনাথপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ধর্ষণের শিকার কিশোরী গৃহকর্মী বাদী হয়ে জামালপুর সদর থানায় মামলা করেছে।

ধর্ষণের শিকার কিশোরী জানায়, ১ বছর আগে সদর উপজেলার শরিফপুর ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের আব্দুল মোতালেব মাস্টারের ছেলে মাজেদুল ইসলামের বাসায় গৃহকর্মীর কাজ নিই। মাজেদুল ইসলাম মেলান্দহ উপজেলা শিক্ষা অফিসের সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তার স্ত্রী নাজমা আক্তার স্কুলশিক্ষিকা। তাদের বাসায় কিছুদিন কাজ করার পর থেকে গৃহকর্তা মাজেদুল ইসলাম স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে প্রতি শনিবার আমাকে নানাভাবে যৌন হয়রানি করতেন। একপর্যায়ে আমাকে ধর্ষণ করেন। এ ঘটনা ফাঁস না করার জন্য আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন মাজেদুল। এরপর থেকে প্রতি শনিবার স্ত্রী স্কুলে চলে যাওয়ার পর নিয়মিত আমাকে ধর্ষণ করে আসছিলেন মাজেদুল।

গৃহকর্মী আরও জানায়, কয়েক মাস পর আমার শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন দেখা দেয়। বিষয়টি দেখে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মাজেদুল ইসলাম দুই মাস আগে পিঙ্গলহাটি গ্রামের এক যুবকের সঙ্গে আমার বিয়ে দেন। বিয়ের দুই মাস পার হলেও আমার পিরিয়ড না হওয়ায় শাশুড়ি ওষুধ খাওয়ান। পরে আমার একটি মৃত ছেলে সন্তান হয়। বিয়ের দুই মাসের মাথায় সাত মাসের সন্তান প্রসব হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে সমালোচনা শুরু হয়। পরে সবাই বিষয়টি জেনে যায়। এ নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এ অবস্থায় আমি ও আমার মৃত সন্তানকে বাবার বাড়িতে রেখে যায় স্বামী ও শাশুড়ি।

এরপর বিষয়টি সবাইকে খুলে বলি আমি। কারণ আমার সন্তানের বাবা বাস্তবে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মাজেদুল ইসলাম। বিষয়টি আমার পরিবার ও স্থানীয়দের জানালে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন সবাই। ঘটনাটি ফাঁস হওয়ার পরই পালিয়ে যান মাজেদুল ইসলাম।

এদিকে, শনিবার দুপুরে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মাজেদুল ইসলামের বাড়ি ঘেরাও করেন এলাকাবাসী। সেই সঙ্গে গৃহকর্মীকে ধর্ষণের বিচার চেয়ে বিক্ষোভ করেন তারা। পাশাপাশি মাজেদুলের শাস্তির দাবি জানান এলাকাবাসী।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জামালপুর সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালেমুজ্জামান বলেন, গৃহকর্মীর ওপর পাশবিক যৌন নির্যাতনের ঘটনায় সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মাজেদুল ইসলামকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা হয়েছে। গৃহকর্মীর গর্ভের মৃত সন্তানের ময়নাতদন্ত ও শিশুটির ডিএনএ পরীক্ষার জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মাজেদুল পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জামালপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, এটি ন্যক্কারজনক ঘটনা। এমন ন্যক্কারজনক ঘটনার জন্য ওই সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবশ্যই বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আসমাউল আসিফ/এএম/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]