দিনাজপুরে সার নিয়ে হাহাকার, ডিলারের অফিস ঘেরাও
দিনাজপুরে সারের জন্য ডিলারের অফিস ঘেরাও করেছে কৃষকরা। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে সদর উপজেলার কমলপুর ইউনিয়নে সার ডিলারের অফিস ঘেরাও করে কয়েকশ’ কৃষক।
স্থানীয়রা জানান, দিনাজপুরে বোরো চারা রোপণ শেষের দিকে। কিন্তু কৃষকেরা প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছেন না। ডিলাররা আজকে-কালকে বলে প্রতিদিন ঘুরাচ্ছেন।
সদর উপজেলার কমলপুর ইউনিয়নের বিসিআইসি অনুমোদিত ডিলার সোনালী ফসলে স্বত্বাধিকারী মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, রোববার সার দেওয়া হবে। সে অনুযায়ী সকাল থেকে হাজার হাজার কৃষক সার নেওয়ার জন্য এসে ভিড় করেন। এ সময় তিনি পর্যাপ্ত সার নেই বলে কৃষকদের চাহিদার তুলনায় কম সারের রশিদ দেন। এ নিয়ে কৃষকদের মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তারা ডিলারের দোকান ঘেরাও করেন। এক পর্যায়ে সকাল ১১টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ডিলার মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শাহিনুর রহমান পালিয়ে যান।
কৃষকরা জানান, বর্তমানে ইউরিয়ার চাহিদা না থাকলেও এক বস্তা টিএসপি (ফসফেট), এক বস্তা এমওপি (পটাশ) ও একবস্তা ডিএপি সার নিলে বাধ্যতামূলকভাবে ৩ বস্তা ইউরিয়া ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আবার যার এক বিঘা জমি তাকেও যে পরিমাণ সার দেওয়া হচ্ছে, ২০ বিঘা জমির মালিককেও সেই পরিমাণ সার দেওয়া হচ্ছে। এ নিয়ে কৃষকের মাঝে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
কৃষকেরা জানান, বাইরে ২০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি দিলে সব ধরনের সার পাওয়া যাচ্ছে। আবার বাইরে ইউরিয়া বিক্রি হচ্ছে ১৩০০ টাকা বস্তা, ডিলার নিচ্ছেন ১৩৫০ টাকা বস্তা।
কমলপুর ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামের কৃষক শাহাজাহান আলম বলেন, কয়েকদিন আগে আমাকে ১ বস্তা পটাশ ও ৩ বস্তা ইউরিয়া সার দেওয়া হয়েছে। আজকে বলছে, ১ বস্তা টিএসপি (ফসফেট), এক বস্তা এমওপি (পটাশ) ও এক বস্তা ডিএপি সার নিলে বাধ্যতামূলকভাবে ৩ বস্তা ইউরিয়া সার নিতে হবে। আমি ১০ বিঘা জমি চাষ করি। আমার সব ধরনের সার কমপক্ষে ১০ বস্তা করে লাগবে। সার নিতে আসলে বলে সার নেই। ট্রাকে ট্রাকে যে সারগুলো আসে, সেগুলো কোথায় যায় আমরা জানতে চাই।
ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি আব্দুস সামাদ বলেন, কৃষকরা যা অভিযোগ করছেন, তার চেয়ে অনেক বেশি অনিয়ম করছেন এ ডিলার মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাব-ডিলার আবুল কালাম আজাদ ও সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শাহিনুর রহমান। যে সার দেওয়া হচ্ছে তা দিয়ে কিছু হবে না।
মো. মনিরুজ্জামান বলেন, তিনি ২০ বিঘা জমি বোরো লাগিয়েছেন। তাকে সার দেওয়া হয়েছে টিএসপি (ফসফেট), এক বস্তা এমওপি (পটাশ) ও এক বস্তা ডিএপি, আর ইউরিয়া ৩ বস্তা। এ সার দিয়ে আমার কিছুই হবে না। বাধ্য হয়ে তিনি আমবাড়ী, আমতলী ও কমলপুর এবং আশপাশের খোলা বাজার থেকে সার সংগ্রহ করছেন।
মহিলা কৃষক শরিফা খাতুন বলেন, সকাল ৭টার সময় এসেছি। এখন দুপুর ১টা বাজে, সার পাইনি। পরে দুপুর ২টার দিকে তাদের একই পরিমাণ সার দেওয়া হয়।
ডিলার মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আমাকে বলেন, আমি অফিসারদের বলি। তারা যেভাবে বলেছেন, আমি সে ভাবেই সার বিক্রি করছি। বাইরে বেশি দামে বিক্রি করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর দিতে পারেননি।
এ বিষয়ে জানার জন্য সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শাহিনুর রহমানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
পরে এ বিষয়ে জানতে সদর উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল্লাহ আল মাসুদ তুষারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পর্যাপ্ত সরবরাহ নেই। তা ছাড়া ওই ইউনিয়নে ধান ছাড়া অন্য কোনো ফসল হয় না। তাই সারের চাহিদা বেশি থাকে। আমি ঘটনা শুনেছি। আপনি আমার অফিসে আসেন, কথা বলব।
অফিসে গিয়ে ফোন করা হলে তিনি বলেন, আমি ঘটনাস্থলে যাচ্ছি। বাইরে খোলা বাজারে সার বেশি দামে পাওয়ার বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি জানি না। আপনি অফিসের সামনে যান, আমার লোক আপনাকে খুঁজে নেবে। আমার চেম্বারে বসেন। পরে তার অফিসের এক পিয়ন তার চেম্বারে নিয়ে গিয়ে বলেন, স্যার আপনাকে এ খামটা দিতে বলেছেন। জিজ্ঞাসা করতেই ওই পিয়ন বলেন, খামের ভিতরে টাকা আছে। স্যার আপনাকে এই খামটা নিয়ে যেতে বলেছেন।
এমদাদুল হক মিলন/আরএইচ/এমএস