রিকশার চাকায় কলেজছাত্রের ভাগ্য ফেরানোর চেষ্টা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ০৮:৪৭ পিএম, ২০ মে ২০১৯

কক্সবাজারের চকরিয়ার উপকূলীয় বদরখালীর ৪নং ওয়ার্ডের খালকাছা পাড়া দারিদ্র্য পীড়িত একটি গ্রাম। সেই গ্রামের দিনমজুর জয়নাল আবেদীন ও মনোয়ারা বেগমের ছেলে আসকর আলী। শ্রমজীবী পরিবারের সন্তান তবুও ছোটবেলা থেকে লেখাপড়ার প্রতি খুবই টান।

তার ইচ্ছে লেখাপড়া করে সেনাবাহিনীর গর্বিত সদস্য হয়ে দেশের সেবা করা। তাই ৫ম শ্রেণিতেই নিজের স্বপ্ন পূরণে রিকশার চাকায় ভর করে এগোচ্ছে আসকর। এভাবে এসএসসি উত্তীর্ণ হয়ে এখন পড়ছে উপকূলীয় বদরখালী কলেজের মানবিক বিভাগে।

স্থানীয় কলেজ শিক্ষক আবু তৈয়ব জানান, খবর নিয়ে জেনেছি, জয়নাল-মনোয়ারার তিন ছেলে দু’মেয়ের মাঝে তৃতীয় আসকর আলী। তার বড় দুই ভাই বিয়ে করে আলাদা সংসার পেতেছে। বাবা-মা ও ছোট দু’বোনকে নিয়ে আসকরের পৃথিবী। বাবা বদরখালী বাজারের দোকানে পানি সরবরাহ ও মা কয়েকটি রেস্তোরাঁয় মরিচ পেশানোর কাজ করেন। বাবা-মায়ের এ আয়ে তিন-বেলা খাবার আশা করাও দুরাশা। তাই ছোটবেলা থেকেই পরিবারের আয়ে যোগান দিতে রিকশায় ভর করে আসকর।

আসকর আলীর বাবা জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘ছেলেটি ছোটবেলা থেকেই মেধাবী। কিন্তু তাদের তিন-বেলা খাবারই ঠিকমতো যোগাড় করতে পারি না। তাই লেখাপড়ার খরচ দেয়া স্বপ্ন ছাড়া কিছুই নয়। কিন্তু ছেলেটি ঠান্ডামাথায় সব হজম করে ১০ বছর বয়স থেকেই রিকশা চালিয়ে পরিবারকে সহযোগিতা করছে। পাশাপাশি নিজের পড়ালেখার খরচ চালিয়ে ছোট দু’বোনকেও পড়াচ্ছে। ছেলেটি সেনাবাহিনীতে চাকরি করতে চাই। আমাদের দোয়া তার ওপর রয়েছে। আল্লাহ অবশ্যই তাকে সফল করবে বলে আমাদের বিশ্বাস।’

বদরখালী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মো. আফসারুজ্জামান বলেন, ‘আসকর আমাদের সমাজের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। অনেক বিত্তবানের ছেলেরা সুযোগ পেলেও লেখাপড়া করে না। আর সেখানে আসকর নিজের মেধার স্বাক্ষর রেখে চলেছে। তার চেষ্টা দেখে কলেজ কর্তৃপক্ষ আসকরকে উপবৃত্তির আওতায় এনে সহযোগিতা করছে।’

আসকর আলী বলেন, ‘গরিব ঘরে জন্ম হলেও লেখাপড়া করে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে পরিবারের দায়িত্ব নিতে চাই। এ কারণে রিকশা চালিয়ে আমার লেখাপড়ার খরচ যোগায়। পাশাপাশি ছোট বোনদেরও শিক্ষার আলো দিতে চেষ্টা চালাচ্ছি। আমার এ প্রচেষ্টাকে অনেকে তাচ্ছিল্য করেছেন। এসবে আমার কিছু যাই আসে না। লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারলেই আমি সফল হব। এখন মানবিক বিভাগের দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ছি। ১৯ বছর হলেই সেনাবাহিনীর নিয়োগ পরীক্ষায় দাঁড়াতে চাই। আমার স্বপ্ন সেনাবাহিনীর সদস্য হয়ে দেশের সেবা করা। লক্ষ্য পূরণে অনুগ্রহ নয় সবার দোয়া চান আসকর।

সায়ীদ আলমগীর/এমআরএম/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :