ভাঙা শহীদ মিনারটি কবে সংস্কার হবে?

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ঠাকুরগাঁও
প্রকাশিত: ০৩:৩৬ পিএম, ২১ মে ২০১৯

ঠাকুরগাঁও শহরের প্রাণকেন্দ্র আশ্রমপাড়া এলাকায় জেলার একমাত্র সরকারি শিশু পার্কের শহীদ মিনারটি এক মাস ধরে গাছ পড়ে ভেঙে আছে। এক মাসেও শহীদ মিনারটি সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি, এমনকি ভাঙা গাছটি সরিয়েও নেয়নি কেউ। শুধু চলছে নামে মাত্র দফতরে দফতরে চিঠি চালাচালি।

ঠাকুরগাঁও পৌরসভা কর্তৃপক্ষ বলছে, গাছটি টেন্ডারের মাধ্যমে সরানোর জন্য লিখিতভাবে বন বিভাগকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। অপরদিকে বন বিভাগ বলছে, এই রকম কোনো চিঠি এখনো পায়নি তারা। এভাবে একে অপরের ওপর দোষ চাপিয়ে কোনো প্রকার সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না।

গত ১৬ এপ্রিল রাতে কালবৈশাখী ঝড়ে শহীদ মিনারের পেছনের শতবর্ষী একটি আমগাছ ভেঙে পড়ে শহীদ মিনারের ওপর। আমগাছ শহীদ মিনারের ওপর পড়ায় শহীদ মিনারটিও ভেঙে যায়। ঘটনার এক মাস অতিবাহিত হলেও এখনও সরানো হয়নি ভেঙে পড়া আমগাছ, মেরামত হয়নি শহীদ মিনারটি।

স্থানীয়দের দাবি, কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে ভেঙে পড়া আম গাছটি সেখানেই পড়ে রয়েছে। ফলে শিশুরা বঞ্চিত হচ্ছে খেলাধুলা থেকে। আর এভাবে ভেঙে পড়ে থাকা শহীদ মিনার দেখে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম একটি খারাপ শিক্ষা পাবে।

ঠাকুরগাঁও আশ্রমপাড়া এলাকার বাসিন্দা জয়দেব রায় বলেন, বাংলা ভাষার সঙ্গে এই শহীদ মিনার ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সেখানে শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত একটি শহীদ মিনার এতদিন ধরে ভেঙে পড়ে আছে সেটা দেখার কেউ নেই। শহীদ মিনারটির ওপর ভেঙে পড়ে আছে যে আম গাছটি সেটার ওপর ছোট শিশুরা খেলতে গিয়ে দুর্ঘটার শিকারও হচ্ছে। অন্তত শিশুদের কথা চিন্তা করেও পৌর কর্তৃপক্ষের উচিৎ ভাঙা গাছটি সড়ানো।

স্থানীয় বাসিন্দা রমজান আলী বলেন, গাছটি দ্রুত সড়িয়ে শহীদ মিনারটি আবারও সংস্কারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে ইতিপূর্বে পৌর মেয়র বরাবর একটি লিখিত দিয়েছি। তাৎক্ষণিক পৌর মেয়র জানান গাছ কাটার অনুমতি তাদের নেই। এটা বন বিভাগের সম্পত্তি। তাই পৌরসভা কর্তৃপক্ষ কোনো প্রদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারছে না।

তিনি আরও বলেন, আশ্রমপাড়া শিশুপার্ক এলাকায় আরও কিছু ঝুঁকিপূর্ণ গাছ আছে, যেগুলো হালকা বাতাস হলেই ভেঙে পড়ে বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার মেয়র মির্জা ফয়সল আমিন বলেন, ইতিমধ্যে পৌরসভা থেকে বন বিভাগকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। তাদের অনুমতি পেলে দ্রুত সময়ে টেন্ডারের মাধ্যমে গাছ বিক্রি করে শহীদ মিনারের কাজ করা হবে।

ঠাকুরগাঁও বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহন শাহ আকন্দ বলেন, আশ্রমপাড়া শিশু পার্কের গাছের বিষয়ে কোনো চিঠি পায়নি। চিঠি পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

রবিউল এহসান রিপন/আরএআর/পিআর