এবার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ছাত্রলীগ নেতার

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সাতক্ষীরা
প্রকাশিত: ০৮:৫৯ এএম, ২২ মে ২০১৯

এবার সাতক্ষীরার দেবহাটা সরকারি খানবাহাদুর আহছানউল্লা কলেজের অধ্যক্ষ রিয়াজুল ইসলামের বিরুদ্ধে নানা দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়েজউল্লাহ। মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় দেবহাটার পারুলিয়া এলাকায় সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এসব অভিযোগ আনেন।

এর আগে বেলা ১১টার দিকে কলেজ প্রাঙ্গণে ছাত্রলীগ নেতা ফয়েজউল্লাহর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও কমিটি বাতিলের দাবি জানান কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা।

সংবাদ সম্মেলনে কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মো.ফয়েজউল্লাহ বলেন, কলেজটির অধ্যক্ষ রিয়াজুল ইসলাম কলেজের বিভিন্ন দুর্নীতি-অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। এসব বিষয়ে প্রতিবাদসহ চলমান দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ায় অধ্যক্ষ রিয়াজুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে অপপ্রচারসহ ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন। বিভিন্ন সময়ে কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ব্যবহারিক পরীক্ষার নামে অতিরিক্ত টাকা আদায়, নতুন ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে ভর্তি ফি বাবদ অতিরিক্ত টাকা আদায়, পরীক্ষার ফরম ফিলাপের নামে বোর্ড নির্ধারিত টাকার চেয়ে দ্বিগুন টাকা আদায়সহ কলেজ ক্যাম্পাসের গাছ ও ফল বিক্রি করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, এ সকল বিষয়ে কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে সোমবার অধ্যক্ষের অফিসে উপস্থিত হয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায়সহ অন্যান্য দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ তথা বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের অপচেষ্টা হিসেবে ভিত্তিহীন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মানববন্ধন করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে দেবহাটা উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান সোহাগ, পারুলিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি সজীব হোসেন, কেবিএ কলেজ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মাসুদ রানা, সাধারণ সম্পাদক আল হাসিব ইফতি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু রায়হানসহ বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে শিক্ষকদের মানববন্ধন শেষে সরকারি খান বাহাদুর আহছানউল্লা কলেজের অধ্যক্ষ রিয়াজুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেছিলেন, ফয়েজউল্লাহ রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অনার্স বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। সোমবার দুপুর ১২টার দিকে হঠাৎ সে আমার রুমে এসে বলে, ‘আংকেল আপনারা স্টুডেন্টদের কাছ থেকে ৮০ টাকা করে নিচ্ছেন কেন?’ তখন আমি বলি, এটা তোমাদের ভাইস প্রিন্সিপাল স্যার বলতে পারবেন, তার কাছে জিজ্ঞেস করো। আমি একটু অন্য কাজে ব্যস্ত। তখন সে বলে, ‘এই তুই জানিস না কেন?’ তখন আমি তাকে আমার রুম থেকে বের হয়ে যেতে বলি। ঘটনার সময় আরও দুজন শিক্ষক আমার কক্ষে ছিলেন।

তিনি আরও জানান, আমার ৩৪ বছরের শিক্ষাকতার জীবনে এমন ঘটনা ঘটেনি। এ ঘটনার পর তার বলা কথাগুলো শিক্ষকদের মাঝে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষকরা প্রতিবাদ শুরু করেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার মানববন্ধন করে প্রতিবাদ ও কমিটি বাতিলের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষকরা। বিষয়টি ইউএনও মহোদয়কে জানানো হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য সাবেক মন্ত্রী ডা. আ.ফ.ম রুহুল হককেও জানানো হবে। এর একটা সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত আমরা শান্ত হব না।

অধ্যক্ষ আরও বলেন, এই ছেলের বিরুদ্ধে ইভটিজিং, গাঁজা সেবন, চাঁদাবাজি, উশৃঙ্খলতার অভিযোগ প্রতিদিনের ঘটনা। তবে তাকে আমরা বুঝাই। অল্প বয়স হয়তো সমাধান হয়ে যাবে। কিন্তু দিন দিন তার আচরণ আরও খারাপের দিকে গেছে। আমরা ছাত্রলীগের কমিটি বাতিলসহ তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা চাই।

আকরামুল ইসলাম/আরএআর/জেআইএম