প্রকৃতির টানে নদীর তীরে

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি গাইবান্ধা
প্রকাশিত: ১১:০৫ এএম, ০৮ জুন ২০১৯

গাইবান্ধা জেলায় কৃত্রিম বিনোদনের একাধিক জায়গা থাকলেও প্রকৃতি মানুষকে যে বিনোদন দিতে পারে তা অন্য কেউ দিতে পারে না। গাইবান্ধার তিস্তা-যমুনা- ব্রহ্মপুত্র নদীর তীরে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে প্রতি বছরের মতো এবারও ভিড় জমেছে হাজার হাজার দর্শনার্থীর। দর্শনার্থীদের প্রকৃতির আরও কাছে নিয়ে যেতে নদীর ধারে নৌকায় অপেক্ষায় থাকেন মাঝিরা। ১০০ থেকে ২ হাজার টাকায় নৌকা ভাড়া নিয়ে চলে বিভিন্ন চরে ঘোরাঘুরি। কাশবন আর ঝাউবনের পাশে পরিবারের সদস্য নিয়ে আনন্দে মেতে ওঠেন দর্শনার্থীরা।

গাইবান্ধার বালাসী ঘাট, ফুলছড়ি ঘাট, সাঘাটা খেয়া ঘাট থেকে নৌকায় উঠে বিভিন্ন চরে ঘুড়তে প্রতিদিন শতশত ভ্রমণ পিপাসু নারী-পুরুষ আসেন। এ জেলায় ৭০টির বেশি চর রয়েছে।

ঢাকায় কর্মরত গাইবান্ধার বাসিন্দা আরিফ মিয়া জাগো নিউজকে জানান, ফুলছড়ি উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদের চরে ঘুড়তে এসে মনে হচ্ছে আমরা প্রকৃতির সঙ্গে মিশে গেছি। মনে পড়ছে শৈশবের নানা স্মৃতি ।

gaibandha02

সাঘাটা উপজেলার চাল ব্যবস্যায়ী মোখছেদুর রজমান বলেন, ঈদের আনন্দ পরিপূর্ণ করতে যমুনার চরে এসেছি। এখানে এসে মনে হচ্ছে পার্কে টিকিট কেটে বিনোদনের জন্য তেমন কিছুই মেলে না । অথচ এখানে আছে প্রকৃতির ভালোবাসার ছোঁয়া ।

রংপুর থেকে ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়ি সাঘাটা উপজেলার ভরতখালিতে এসেছেন মুশফিকুর রহমান রোমান। তিনি পরিবার নিয়ে ৫০০ টাকায় ডিঙ্গি নৌকা ভাড়া নিয়ে ঘুরে বেরাচ্ছেন যমুনা নদীর বিভিন্ন চরে ।

gaibandha

অনুভূতির কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, গত ১০ বছর থেকে আমি ঈদের ছুটিতে ফুলছড়ি ঘাট বা বালাসী ঘাট থেকে বিভিন্ন চরে আসি । এখানে যেন প্রকৃতির টানে আমি মুগ্ধ হয়ে অপেক্ষায় থাকি কখন আসবে ঈদ ।

বিনোদন প্রেমীদের নৌকায় করে আনন্দ দিতে ২০ বছরের অভিজ্ঞতার জানালেন ফুলছড়ি উপজেলার খাটিয়ামারি ইউনিয়নের মাঝি রইছ উদ্দিন । তিনি বলেন, বিভিন্ন জেলাত (জেলা) থেকে অনেক মানুষ আহে (আসে) হামা গেরে চরে। হামরা তাগেরে নৌকাত করে ঘুরে নিয়ে বেড়াই। তয় ঈদের ৪-৫ দিন হামাগেয়ে টাহা পয়শা ভালোই কামাই হয় । চলো বাহে ঘুরে আহি।

gaibandha

সাঘাটা উপজেলার শ্যামপুর গ্রামের বাসিন্দা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মাহফুজুর রহমান আখন্দ জাগো নিউজকে জানান, ঈদের সময় বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রে ভিড়ের কারণে অনেক সময় হয়তো পরিবারকে তেমন আনন্দ দেয়া সম্ভব হয় না । তাই গাইবান্ধাসহ দেশের বিভিন্ন নদী বেষ্টিত চরঞ্চলগুলোকে বিনোদনের স্পট হিসেবে আমরা ব্যবহার করি।

জাহিদ খন্দকার/আরএআর/এমকেএইচ

আপনার মতামত লিখুন :