স্যার আমি গরিব মানুষ, টিকিট আছে টাকা নেই

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি রাজবাড়ী
প্রকাশিত: ০৪:২৫ পিএম, ১৩ জুন ২০১৯

টিকিট থাকা সত্ত্বেও ট্রেন যাত্রীদের কাছ থেকে অবৈধভাবে টাকা আদায়ের ঘটনায় রাজবাড়ী রেলওয়ে থানা পুলিশের (জিআরপি) সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আকসাতুর রহমানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার তাকে প্রত্যাহার করা হয়। একই সঙ্গে পাকশী রেলওয়ের পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলামের নির্দেশে এএসআই আকসাতুর রহমানকে রাজবাড়ী থেকে প্রত্যাহার করে পাকশীতে নেয়া হয়েছে।

জানা যায়, রাজশাহী-গোয়ালন্দঘাট রেলপথে চলাচলকারী আন্তঃনগর মধুমতি এক্সপ্রেসের টিকিট থাকা সত্ত্বেও যাত্রীদের কাছ থেকে অবৈধভাবে টাকা আদায় করেন রাজবাড়ী রেলওয়ে থানা পুলিশের এএসআই আকসাতুর রহমান।

স্থানীয় সূত্র জানায়, রাজশাহী থেকে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দঘাটগামী আন্তঃনগর মধুমতি এক্সপ্রেস ট্রেনটি সপ্তাহে চলাচল করে ছয় দিন। প্রতি বৃহস্পতিবার বন্ধ থাকে। রোববার দুপুরে কালুখালী রেলস্টেশনে ট্রেনটি থামার পর নামতে শুরু করেন যাত্রীরা। এ সময় ট্রেনের বাইরে প্ল্যাটফর্মে এক যাত্রীর সঙ্গে টাকা নিয়ে বাগবিতণ্ডায় জড়ান রেলওয়ে পুলিশের এএসআই আকসাতুর। ট্রেনযাত্রী তাকে ৫০ টাকা দিতে চাইলে তা নিতে তিনি অস্বীকৃতি জানান। ওই সময় ট্রেনযাত্রী বলেন, ‘স্যার, আমি গরিব মানুষ। টিকিট আছে। আমার কাছে অতিরিক্ত টাকা নেই। আজকের মতো এই টাকা নেন।’

ট্রেনের যাত্রীরা জানান, এএসআই আকসাতুর রোববার টাকা তুলতে এসেছেন। একেক দিন একেকজন পুলিশ সদস্য টাকা তোলেন। তারা সবাই রাজবাড়ী রেলওয়ে পুলিশের সদস্য।

Rajbari

ট্রেনযাত্রী মো. বাচ্চু বলেন, ‘আমি পাংশায় থাকি। রাজবাড়ীতে যাওয়ার জন্য দুটি টিকিট কেটেছি। আমার কাছে ২০০ টাকা চেয়েছে পুলিশ। টাকা দেইনি। তাই আমাকে কালুখালীতে নামিয়ে দিয়েছে পুলিশ।’

খোকশা থেকে আসা যাত্রীরা জানান, তারা গোয়ালন্দের টিকিট কেটেছেন। প্রতিটি টিকিটের দাম ৬২ টাকা করে রাখা হয়েছে। কোথাও জায়গা না পেয়ে মালামালের বগিতে দাঁড়িয়ে ছিলেন তারা। তাদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা নিয়েছে পুলিশ। টিকিট দেখালে পুলিশ জানায়, এর কোনো দাম নেই। টাকা দিতে হবেই।

এদিকে, টিকিট থাকা সত্ত্বেও ট্রেন যাত্রীদের কাছ থেকে অবৈধভাবে টাকা আদায়ের পর বিষয়টি কালুখালী রেলস্টেশনের মাস্টার ও রাজবাড়ী রেলওয়ে থানা পুলিশের ওসিকে জানান যাত্রীরা।

আন্তঃনগর মধুমতি এক্সপ্রেস ট্রেনে ওই দিন দায়িতে থাকা পরিচালক মোক্তার হোসেন বলেন, ঈদ পরবর্তীতে যাত্রীদের প্রচুর চাপ থাকায় ব্যস্ত ছিলাম। কালুকালী স্টেশনে আসার পর যাত্রীদের থেকে এএসআই আকসাতুর রহমান টাকা নিয়েছেন বলে যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন। পরে জিআরপি ওসিকে বিষয়টি জানান যাত্রীরা। ওই সময় এএসআই আকসাতুর টাকা নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন তিনি ওই যাত্রীকে সিট দেখিয়ে দেয়ার জন্য সহযোগিতা করেছেন।

কালুখালী রেলস্টেশনের ভারপ্রাপ্ত মাস্টার জয়ব্রত সাহা বলেন, রোববার রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা আন্তঃনগর মধুমতি এক্সপ্রেস ট্রেনে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এএসআই আকসাতুর রহমানের বিরুদ্ধে যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছি। পরবর্তীতে রাজবাড়ী জিআরপি পুলিশের ওসি ও পাকশীর রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে তারা।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রাজবাড়ী রেলওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকবর হোসেন বলেন, আন্তঃনগর মধুমতি এক্সপ্রেস ট্রেনে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এএসআই আকসাতুর রহমানের বিরুদ্ধে যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ পেয়ে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। যার প্রেক্ষিতে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে এএসআই আকসাতুর রহমানকে রাজবাড়ী থেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছে রেলওয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ।

রুবেলুর রহমান/এএম/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :