ফল কিনতে ভারতে গিয়ে পুলিশের ৩ কনস্টেবল ক্লোজড

উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি বেনাপোল (যশোর)
প্রকাশিত: ০৯:৩৫ পিএম, ১৭ জুন ২০১৯

হুন্ডির সাড়ে ১২ লাখ টাকাসহ বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের তিন কনস্টেবল ও ইমিগ্রেশনের এক কর্মচারীকে আটক করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।

আটকের পাঁচ ঘণ্টা পর তিন পুলিশকে ছেড়ে ইমিগ্রেশনের কর্মচারীকে চালান দিয়েছে বিএসএফ। সোমবার সকাল ৯টার দিকে তাদের আটক করে বিএসএফ।

আটককৃতরা হলেন- ইমিগ্রেশন পুলিশের কনস্টেবল আজম উদ্দিন, রমা ও তৃষা এবং কর্মচারী বেনাপোল বড়আঁচড়া গ্রামের রুহুল আমীন। দিনভর আটক রাখার পর বিকেলে ইমিগ্রেশন পুলিশের ওসি আবুল বাসার বিএসএফ ক্যাম্পে গিয়ে নিজ জিম্মায় পুলিশের তিন সদস্যকে বাংলাদেশে ফেরত আনেন। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাদের প্রত্যাহার করে যশোর পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বেনাপোল পোর্ট থানার বড়আঁচড়া গ্রামের রুহুল আমিন বেনাপোল ইমিগ্রেশনে কাজ করার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা পাচার করেন। এ কাজের জন্য মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে মাঝেমধ্যে ইমিগ্রেশন পুলিশ সদস্যদের ব্যবহার করেন তিনি। তার সঙ্গে ইমিগ্রেশনের কিছু অসৎ কর্মচারী জড়িত।

Benapole-Immigration-01.jpg

সোমবার কনস্টেবল আজম উদ্দিনের নেতৃত্বে কনস্টেবল রমা, তৃষা ও কর্মচারী রুহুল ভারতের ইমিগ্রেশন পুলিশ ও বিএসএফকে জানিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন। ভারত থেকে ফেরার পথে বিএসএফ গোপন সংবাদের মাধ্যমে তাদের আটক করে। পরে তাদের তল্লাশি করা হয়। এরপর তাদের কাছ থেকে সাড়ে ১২ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের আটক করে বসিয়ে রাখে পেট্রাপোল বিএসএফ ক্যাম্পে।

বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের ওসি আবুল বাশার বলেন, আমরা এ ধরনের একটি সংবাদ পেয়ে ভারতের পেট্রাপোল সীমান্তের বিএসএফ ক্যাম্পে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি বেনাপোলের বড়আঁচড়া গ্রামের রুহুল আমিনকে দুই লাখ টাকাসহ ভারতীয় বিএসএফ আটক করেছে। পুলিশের তিন কনস্টেবল রুহুলের সঙ্গে ভারতে ফল কিনে আবার তার সঙ্গে ফেরার পথে বিএসএফের হাতে আটক হয়। পরে তাদের ক্যাম্পে নিয়ে যায় বিএসএফ। আমরা বিএসএফের সঙ্গে কথা বলে তিন কনস্টেবলকে দেশে ফেরত এনেছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করার পর তিন কনস্টেবলকে প্রত্যাহার করে যশোর পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। আর রুহুল আমিনকে টাকা আনার অপরাধে ভারতীয় বিএসএফ থানায় সোপর্দ করেছে।

বেনাপোল চেকপোস্ট বিজিবি ক্যাম্পের সুবেদার বাকি বিল্লাহ বলেন, পেট্রাপোল চেকপোস্টে পুলিশসহ চারজন গিয়েছিল। কিন্তু বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ তিনজনকে ফেরত এনেছে। বাংলাদেশি নাগরিক রুহুল নামে এক যুবককে পুলিশ ফেরত আনেনি। তাকে হুন্ডির টাকা পাচারের অভিযোগে বিএসএফ চালান দিয়েছে।

জামাল হোসেন/এএম/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :