শহীদ মিনারের সিঁড়ি ভেঙে নির্মিত টয়লেটের ট্যাংক সরানোর নির্দেশ
শহীদ মিনারের সিঁড়ি ভেঙে নির্মাণ করা টয়লেটের সেপটিক ট্যাংক সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শামীম আল ইমরান।
ইউএনওর নির্দেশে উপজেলার দাসের বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের সিঁড়ি ভেঙে নির্মাণ করা টয়লেটের সেপটিক ট্যাংক সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে মেরামত করা হবে শহীদ মিনারের ভেঙে ফেলা সিঁড়ির অংশ।
বিষয়টি নিয়ে সোমবার (১৭ জুন) ‘শহীদ মিনারের সিঁড়ি ভেঙে টয়লেটের সেপটিক ট্যাংক’ শিরোনামে জাগো নিউজে সংবাদ প্রকাশ হয়। এরপর সংবাদটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হলে এলাকায় তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়।
সংবাদ প্রকাশের পর সোমবার সকালে বড়লেখা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শামীম আল ইমরান দাসের বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পান।
একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের একাংশ ভেঙে টয়লেটের ট্যাংক নির্মাণের ঘটনায় বিদ্যালয় কমিটির সভাপতির ওপর চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন ইউএনও। পাশাপাশি দ্রুতসময়ের মধ্যে টয়লেটের ট্যাংক সরানোর এবং শহীদ মিনার মেরামতের নির্দেশ দেন ইউএনও শামীম আল ইমরান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন- বড়লেখা উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাওলাদার আজিজুল ইসলাম, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা উবায়েদ উল্লাহ খান, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি স্বপন চক্রবর্তী, প্রধান শিক্ষক দীপক রঞ্জন দাস ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মুছব্বির আলী প্রমুখ।
জানা যায়, ভবনের পেছনে পর্যাপ্ত জায়গা থাকা সত্ত্বেও দাসের বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের সিঁড়ি ভেঙে নতুন একাডেমিক ভবনের টয়লেটের সেপটিক ট্যাংক নির্মাণ করা হয়। ভাষা সৈনিকদের স্মৃতিস্তম্ভের একাংশ ভেঙে এভাবে টয়লেটের সেপটিক ট্যাংক নির্মাণ করায় বিভিন্ন মহলে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দেয়।
এ ব্যাপারে বড়লেখা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শামীম আল ইমরান বলেন, জাগো নিউজে সংবাদটি দেখার পর তাৎক্ষণিক বিদ্যালয়ে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পাই। তখন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, কমিটির সভাপতি ও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীকে টয়লেটের ট্যাংক সরিয়ে ভবনের পেছনে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছি। সেই সঙ্গে টাইলস দিয়ে শহীদ মিনারের ভাঙা অংশ মেরামতের নির্দেশ দিয়েছি। টয়লেটের সেপটিক ট্যাংক সরিয়ে নিয়ে শহীদ মিনারের ভেঙে ফেলা অংশ মেরামত করে দেবে তারা।
রিপন দে/এএম/এমএস