কোনো প্রশ্নেরই সঠিক জবাব দিলেন না তিনি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক খুলনা
প্রকাশিত: ১০:০০ পিএম, ২৪ জুন ২০১৯

বিদ্যুতের প্রি-প্রেইড মিটার বন্ধের দাবিতে খুলনায় চলমান আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো)। তবে সাংবাদিকদের প্রশ্নবাণে জর্জরিত ওজোপাডিকোর এমডি সঠিকভাবে কোনো প্রশ্নেরই জবাব দিতে পারেননি।

সোমবার (২৪ জুন) খুলনা প্রেসক্লাবে বিদ্যুতের প্রি-প্রেইড মিটার স্থাপন বিষয়ে উত্থাপিত বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এসময় ওজোপাডিকোর অফিসের সব স্টাফই উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে প্রথমবারের মতো সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হন ওজোপাডিকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. শফিক উদ্দিন। তবে সংবাদিকদের একাধিক প্রশ্নের কোনোটিরই সঠিক উত্তর দিতে পারেননি তিনি। এমনকি ব্যক্তিগত অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবও তিনি এড়িয়ে যান।

কোনো প্রশ্নেরই উত্তর দিতে না পেরে এক পর্যায়ে তিনি সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত প্রি-পেমেন্ট মিটার প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. শহীদুল ইসলাম ও উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. রকিবুল ইসলামকে উত্তর দিতে বলেন।

দীর্ঘ দুই ঘণ্টার সংবাদ সম্মেলনে ওজোপাডিকোর এমডি ও ওই দুই প্রকৌশলী সাংবাদিকদের প্রশ্নের যথাযথ উত্তর দিতে না পেরে এক পর্যায়ে প্রি-প্রেইড মিটার সংক্রান্ত জটিলতা নিরোসনের জন্য গ্রাহকদের কাছে ৬ মাস সময় চান তারা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তারা বলেন, ওজোপাডিকো (বিউবো এর একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান) দেশের দক্ষিণ-পিশ্চমাঞ্চলের ২১ জেলা শহরে এবং ২০টি উপজেলা শহরে বর্তমান সরকার কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের মাধ্যমে গ্রাহক আঙ্গিনায় নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্পন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ২০১৫ সালে মিলেনিয়াম ডেভলপমেন্ট গোলস (এমডিজি) অর্জনের পর টেকসই উন্নয়নের জন্য জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭০তম অধিবেশনে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট ২০৩০ এর এজেন্ডা গৃহীত হয়েছিল। এজেন্ডাটিতে ১৭টি সার্বজনীন ও টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) এবং ১৬৯ টি লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। তার মধ্যে বিদ্যুৎখাত সংশ্লিষ্ট অভীষ্ট ৭।

সম্প্রতি খুলনার কয়েকটি স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিকে প্রি-পেইড মিটার সম্পর্কে প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) কর্তৃক নির্ধারিত বিদ্যুতের মূল্যহার (ট্যারিফ রেট) ও চার্জ (ডিমান্ড চার্জ, ভ্যাট) মোতাবেক প্রি-পেইড মিটার হতে টাকা কর্তন করা হয়। যা পূর্বের পোস্ট-পেইড/ডিজিটাল মিটারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিল। এছাড়া অতিরিক্ত কোনো চার্জ কর্তন করার সুযোগ নেই।

সংবাদ সম্মেলনে ওজোপাডিকোর এমডি প্রি-পেমেন্ট মিটার স্থাপনের ফলে গ্রাহকরা যে সকল সুবিধাদি পাচ্ছেন তার বেশ কিছু বর্ণনা তুলে ধরে বলেন, স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটার শটসার্কিট জনিত দুর্ঘটনা রোধ করে গ্রাহকের বিদ্যুৎ ব্যবহার নিরাপদ করে। স্মাট প্রি-পেমেন্ট মিটারিং পদ্ধতিতে ভেন্ডিং স্টেশন এবং মোবাইল ভেন্ডিং এর মাধ্যমে বিল পরিশোধ সহজ সাধ্য যা এনালগ/ডিজিটাল মিটার পদ্ধতির মিটার রিডিং সংক্রান্ত যাবতীয় ঝামেলা থেকে মুক্ত। ব্যবহারকারী পরিবারের বাজেট অনুযায়ী বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুবিধা পাওয়া যায় বা যেকোনো গ্রাহক বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে পারে। মিটারে ব্যালান্স শেষ হয়ে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে ১০০ টাকা অগ্রীম ব্যালান্স নেয়ার ব্যবস্থা থাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। সাপ্তাহিক ছুটি (শুক্রবার ও শনিবার), সরকারি ছুটির দিনে এবং অফিস সময়ের পরে (বিকাল ৪ থেকে পরদিন সকাল ১০টা পর্যন্ত) মিটারে ব্যালান্স না থাকলেও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয় না।। গ্রাহকরা নিট বিদ্যুৎ বিলের ওপর ১ শতাংশ হারে রিবেট পাচ্ছেন।

উল্লেখ্য, খুলনায় প্রি-পেইড মিটারে বিদ্যমান দুর্নীতি প্রতিরোধে সংগ্রাম কমিটি গঠিত করা হয়। এ কমিটি ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) দুর্নীতি-অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রায় এক মাস ধরে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন করে আসছে।

আলমগীর হান্নান/এমবিআর/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :