চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে নিহতের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, ভিডিও ভাইরাল

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নরসিংদী
প্রকাশিত: ০৫:৩৪ পিএম, ০১ জুলাই ২০১৯

নরসিংদীতে দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তির পরিবারকে দেয়া জরিমানার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। দীর্ঘ এক বছরেও ক্ষতিপূরণের টাকা না দেয়া এলাকায় বইছে নিন্দার ঝড়। এছাড়া টাকা লেনদেনের ভিডিও ফুটেজ ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।

এদিকে ক্ষতিপূরণের টাকা দিতে গিয়ে নেয়া ঋণের বোঝা আজও বইছেন বলে দাবি করেছেন ট্রাক্টরের মালিক সোনা মিয়া। তবে টাকা লেনদেনের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন সদর উপজেলার পাইকারচর ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসেম।

স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, এক বছর আগে পাইকারচর ইউনিয়ন পরিষদের কামারচর এলাকার বেনু মিয়ার ছেলে সুমন মিয়া (২০) সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন। নিহত সুমনের বাবাকে দেয়ার জন্য ক্ষতিপূরণ হিসেবে গাড়ির মালিক পাঁচদোনা এলাকার সোনা মিয়া চেয়ারম্যানের কাছে এক লাখ টাকা দেন। চেয়ারম্যানের নির্দেশে তার ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার এম এ হোসেন সেই টাকা বুঝে নেন। কিন্তু এক বছর পেরিয়ে গেলেও চেয়ারম্যান নিহতের পরিবারকে কোনো টাকা দেননি। এ নিয়ে এলাকায় সমালোচনার ঝড় বইছে। আর সেই টাকা লেনদেনের ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে পড়েছে।

গাড়ির মালিক সোনা মিয়া অভিযোগ করে বলেন, যে ছেলেটি গাড়ি চাপায় মারা গেছে। সে আমার গাড়ির চাপায় মরেনি। দুর্ঘটনা ঘটেছিল একটি লেগুনার সঙ্গে। কিন্তু লেগুনাটি পালিয়ে গেলে স্থানীয়রা সন্দেহ করে পেছনে থাকা আমার ট্রাক্টরটি আটক করে। পরে আমি নিহত সুমনের বাবা বেনু মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি আমাকে বলেন, আপনার কাছে আমার কোনো টাকা-পয়সার দাবি নাই। আমার ছেলে মারা গেছে, টাকা-পয়সা দিয়ে কী হবে?

তিনি বলেন- ঘটনার দুইদিন পর চেয়ারম্যান আমাকে ডেকে নিয়ে বলেন, দেড় লাখ টাকা না দিলে গাড়ি ছাড়া যাবে না। আর না দিলে মামলা করব। তখন আমি তাকে বলি- নিহত সুমনের বাবা তো কোনো টাকা-পয়সা দাবি করছেন না। তিনি (চেয়ারম্যান) বলেন- সেটা আপনার কাছে না করলেও আমার কাছে বলছে, টাকা নেবে। পরে র্দীঘ একমাস চেয়ারম্যানের পেছনে ঘুরেও গাড়িটি ছাড়াতে না পেরে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে আমি চেয়ারম্যানের ম্যানেজার এম এ হোসেনের হাতে এক লাখ টাকা বুঝিয়ে দিলে গাড়িটি ছাড়া হয়।

গাড়ির মালিক আরও বলেন, কিছুদিন আগে আমি জানতে পারলাম, ওই টাকা চেয়ারম্যান নিহতের পরিবারের কাউকে প্রদান করেননি। তিনি নিজেই সব টাকা মেরে দিয়েছেন। আমি গরীব মানুষ, আজও সেই ঋণের টাকা পরিশোধ করতে পারিনি। টাকা দেয়ার সময় আমার মনে হয়েছে- চেয়ারম্যান আমার টাকাগুলো অন্যায়ভাবে নিয়ে যাচ্ছে। তাই মোবাইলে ভিডিও করে রেখেছিলাম।

চেয়ারম্যানের ম্যানেজারের কাছে টাকা বুঝিয়ে দেন সোনা মিয়ার ভাতিজা মানিক মিয়া। তিনি বলেন, চেয়ারম্যানের কথা অনুযায়ী তার মাধবদীর ফ্যাক্টরিতে গিয়ে ম্যানেজারের কাছে টাকা বুঝিয়ে দিয়ে আসি। ওই সময় আমার সঙ্গের একজনকে দিয়ে টাকা লেনদেনের ভিডিও করে রেখেছি।

এদিকে নিহতের বাবা বেনু মিয়া বলেন, ‘আমি চেয়ারম্যানক কোনো দিন বলিনি- আমার ছেলে মারা গেছে, গাড়ির মালিকের কাছ থেকে টাকা এনে দেন। উল্টো আমি গাড়ির মালিককে বলেছি, গাড়ি নিয়ে যেতে। কিন্তু চেয়ারম্যান র্দীঘদিন আটকে রাখার পর তাকে গাড়ি দিয়েছে। কত টাকা নিছে সেটা আমিও জানি না। আপনাদের কাছে শুনলাম এক লাখ টাকা নিয়েছে।’

তবে টাকা নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে পাইকারচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল হাসেম বলেন, অমার নিজস্ব ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ম্যানেজার প্রতিদিন বিভিন্ন জনের কাছ থেকে টাকা লেনদেন করেন। এটাকে ক্ষতিপূরণের টাকা বলে চালিয়ে দিলে তো হবে না।

তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনার পর সমবেদনা জানানোর জন্য আমি নিহতের বাড়িতে গিয়েছিলাম। সেখানে কোনো দফা-রফা হয়নি।

সঞ্জিত সাহা/এমবিআর/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :