গভীর রাতে শিক্ষিকার সঙ্গে ধরা পড়ে অধ্যক্ষ বললেন ভুল করেছি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি পাবনা
প্রকাশিত: ০৭:৫১ পিএম, ১৩ জুলাই ২০১৯

পাবনার সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজের (টিটিসি) ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুজাউদ্দৌলাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। স্কুলশিক্ষিকার করা শ্লীলতাহানির মামলায় সুজাউদ্দৌলাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

শনিবার দুপুরে পাবনার আমলি আদালতে-১ হাজির করা হলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুজাউদ্দৌলার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক।

এর আগে শুক্রবার বিকেলে স্কুলশিক্ষিকা বাদী হয়ে পাবনা সদর থানায় শ্লীলতাহানির মামলা করেন। ওই মামলায় অধ্যক্ষ সুজাউদ্দৌলাকে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ।

বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে কলেজের গেস্ট হাউসে অধ্যক্ষের সঙ্গে ওই শিক্ষিকাকে দেখে বাইর থেকে তালা দিয়ে পুলিশে খবর দেন কলেজের শিক্ষার্থীরা। এ নিয়ে উত্তেজনার একপর্যায়ে অধ্যক্ষ এবং শিক্ষিকাকে উদ্ধার করে থানায় নেয় পুলিশ।

এরপর শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত ওই নারী এবং অধ্যক্ষ নিজেদের নির্দোষ বলে দাবি করেন। পরে পুলিশের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে মুখ খোলেন তারা। সেই সঙ্গে শ্লীলতাহানির মামলা করেন স্কুল শিক্ষিকা। মামলার বাদী সিরাজগঞ্জের একটি হাইস্কুলের শিক্ষিকা। তিনি পাবনা সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ (টিটিসি) থেকে বিএড শেষ করে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে এমএড করছেন।

অধ্যক্ষ সুজাউদ্দৌলা কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার খয়েরপুর গ্রামের মৃত আনোয়ার হোসেনের ছেলে। তিনি শিক্ষা ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা এবং সহযোগী অধ্যাপক। সুজাউদ্দৌলা পাবনা সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজে (টিটিসি) দুই বছর উপাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর গত ডিসেম্বর মাস থেকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

পাবনা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবায়দুল হক বলেন, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে কলেজের গেস্ট হাউসে অধ্যক্ষের কক্ষে স্কুল শিক্ষিকাকে দেখে তালা দিয়ে পুলিশকে খবর দেয় অন্য শিক্ষার্থীরা। এ নিয়ে উত্তেজনার একপর্যায়ে অধ্যক্ষ এবং শিক্ষিকাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়। শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত ওই নারী এবং অধ্যক্ষ নিজেদের নির্দোষ বলে দাবি করেন। পরে পুলিশের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে মুখ খোলেন তারা। সেই সঙ্গে তাদের মধ্যে অনৈতিক সম্পর্কের কথা জানতে পারে পুলিশ।

তিনি বলেন, দিনভর নাটক শেষে বিকেলে স্কুল শিক্ষিকা অভিযোগ করেন অধ্যক্ষ তাকে সুবিধা দেয়ার প্রলোভনে দীর্ঘদিন ধরে উত্ত্যক্ত করতেন। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে গেস্ট হাউসে আসতে বলেন অধ্যক্ষ। সেখানে গেলে তার শ্লীলতাহানি করেন অধ্যক্ষ। পরে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে পাবনা থানায় শ্লীলতাহানির মামলা করেন ওই শিক্ষিকা। ওই মামলায় অধ্যক্ষকে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ। সেই সঙ্গে ওই শিক্ষিকাকে ছেড়ে দেয়া হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পাবনা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, শনিবার দুপুরে পাবনার আমলি আদালতে-১ অধ্যক্ষ সুজাউদ্দৌলাকে নেয়া হয়। এ সময় তার আইনজীবী জামিন আবেদন করলে তা নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক।

প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক শিক্ষার্থী জানান, গত দুই বছর ধরে বিএড উন্মুক্ত কোর্সের এক নারী সিরাজগঞ্জ থেকে প্রতি বৃহস্পতিবার এসে দুইদিন কলেজের ছাত্রী হোস্টেলে অবস্থান করেন। মাঝেমধ্যে ওই নারী অধ্যক্ষের কক্ষে রাতে অবস্থান করতেন। বিষয়টি নিয়ে আবাসিক শিক্ষার্থীরা চরম বিব্রত ও ক্ষুব্ধ ছিলেন। বৃহস্পতিবার রাতে ওই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে শিক্ষার্থীরা তাদের হাতেনাতে ধরে ফেলে বাইরে থেকে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে বিক্ষোভ করেন। ঘটনাটি জানাজানি হলে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যায়ের শিক্ষার্থীরাও কলেজ ক্যাম্পাসে জড়ো হন।

পুলিশের একাধিক সূত্র জানায়, অভিযুক্তদের পাবনা সদর থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা গেস্ট রুমে বসে গল্প করছিলেন বলে জানান। এ সময় হঠাৎ কয়েকজন যুবক তাদের ওই কক্ষে তালা মেরে হট্টগোল শুরু করে থানায় খবর দেন। তারা নিজেদের নির্দোষ বলে দাবি করেন। বিকেলে পাবনা সদর থানা পুলিশের ওসি ওবাইদুল হকের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ওই নারী এবং অধ্যক্ষের মধ্যে অনৈতিক সম্পর্ক আছে বলে জানতে পারে। বিকেলে থানায় এসে দুইজনকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলে এই সম্পর্কের কথা স্বীকার করেন তারা।

পরে ওই নারী অভিযোগ করেন, অধ্যক্ষ প্রায়ই তাকে উত্ত্যক্ত করতেন এবং বৃহস্পতিবার রাতে গেস্ট হাউসে আসতে বলেন। সেখানে গেলে শিক্ষিকার গায়ে হাত দেন এবং অনৈতিক প্রস্তাব দেন অধ্যক্ষ। পরে ওই নারী অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির মামলা করলে অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

তবে অভিযুক্ত অধ্যক্ষ সুজাউদ্দৌলা সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেছেন, আমার কিছু ভুল ছিল, আমি ভুল করেছি এটা সত্য। তবে আমার বিরুদ্ধে করা মামলাটি ষড়যন্ত্রমূলক।

একে জামান/এএম/এমকেএইচ

আপনার মতামত লিখুন :