অল্প বৃষ্টিতেই ডুবে যায় মহানগরী

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক খুলনা
প্রকাশিত: ০৪:৩৫ পিএম, ১৪ জুলাই ২০১৯

নগরীর অভ্যন্তর দিয়ে বয়ে চলা ২২টি নদী ও খাল অবৈধ ও প্রভাবশালীদের দখল থেকে মুক্ত করতে না পারায় বর্ষা মৌসুমে অল্প বৃষ্টিতেই ডুবে যায় খুলনা মহানগরীর অধিকাংশ এলাকা। এতে যানজটের মাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নর্দমার পানিতে জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়।

শনিবার রাতে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে খুলনা নগরীর অধিকাংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। বৃষ্টিতে নগরীর প্রধান সড়কে হাঁটুপানি হলেও নিম্নাঞ্চল কোমর পানিতে তলিয়ে গেছে। সেই সঙ্গে নিম্নাঞ্চলে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বেশ কিছু রাস্তাঘাটে পানি জমে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বৃষ্টির পানি যথাসময়ে অপসারণ না হলেও মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া নদী ও খাল দখল মুক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছে খুলনা জেলা প্রশাসন। পাশাপাশি খুলনা ওয়াসা গত চার বছর ধরে রাস্তা খুঁড়ে তা মেরামত না করায় বৃষ্টিতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে নগরবাসী। সৃষ্টি হয়েছে যানজট, বেড়েছে দুর্ঘটনা।

khulna-rain

স্থানীয়রা জানায়, বৃষ্টির পানি বেরিয়ে যাওয়ার জন্য পানি নিষ্কাশনের নর্দমা নিয়মিত পরিষ্কার না করায় নালা বন্ধ থাকা, সময়মতো নগরীর ২২ খাল দখল উচ্ছেদ ও সংস্কার না করা, জলাধার দখল ও ভরাট থাকা, নদী দখল ইত্যাদি কারণে নগরীতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।

নগরবাসীর অভিযোগ, খুলনা ওয়াসার মেগা প্রকল্পের পানি সরবরাহের লাইন বসাতে বার বার রাস্তা খোঁড়াখুঁড়িতে নগরীর অধিকাংশ সড়ক বেহাল। মেরামত না করায় খানাখন্দ ও ছোট বড় গর্তের কারণে দুশ্চিন্তায় আছে নগরবাসী। বৃষ্টিতে তলিয়ে যাওয়া ভাঙা ফুটপাত আর খানাখন্দে ভরা রাস্তায় যেকোনো মুহূর্তে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।

khulna-rain

জানা যায়, খুলনা মহানগরী ও জেলার তিনটি উপজেলায় ময়ূর নদসহ মোট ২৬টি খালে ৪৬০ জন দখলদার ও ৩৮২টি অবৈধ স্থাপনা চূড়ান্তভাবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। পানি নিষ্কাশনে প্রয়োজনীয় ভূমি, নদী ও খালগুলোর সীমানা নির্ধারণ, যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও অবৈধ দখলমুক্ত করাসহ পানি চলাচল নিশ্চিত করতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।

খুলনার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন বলেন, খুলনা নগরী ও আশপাশের নদী খাল দখলদারদের বিষয়ে একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রতিবেদনটি জাতীয় নদীরক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান বরাবর পাঠানো হয়েছে। কর্মকর্তাদের নির্দেশ পেলেই উচ্ছেদ অভিযান শুরু করা হবে। খাল ও নদী দখল উচ্ছেদ হলে সমাধান হয়ে যাবে খুলনার জলাবদ্ধতার।

আলমগীর হান্নান/এএম/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :