৬৫ দিন পর সাগরে নামছেন জেলেরা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ভোলা
প্রকাশিত: ১১:০০ এএম, ২৩ জুলাই ২০১৯

বঙ্গোপসাগরে সব ধরনের মাছ শিকারের ওপর ৬৫ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে আজ (২৩ জুলাই)। গত ২০ মে ভোর থেকে এই নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়।

এদিকে নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার আগেই জাল ও ফিশিং বোর্ড নিয়ে মাছ শিকারে নেমে পরেছে ভোলার কিছু কিছু জেলে। তবে বেশিরভাগ জেলে আজ (মঙ্গলভার) বিকেলের পরে সাগরে মাছ শিকারের জন্য রওয়ানা হবেন। এ জন্য ইতোমধ্যে ফিশিং বোট, ইঞ্জিন এবং জাল সারাই সম্পন্ন করেছেন।

অনেক জেলে দল বেঁধে মাছ শিকারের জন্য একটানা ৭/৮ দিন সাগরে অবস্থান করবেন। এ জন্য পরিবারের সদস্যদের কাছে থেকে বিদায় নেয়ার আগে ঘাটের আশপাশের দোকানে চাল, ডালসহ মুদি মালামাল কেনার জন্য ভিড় জমিয়েছেন।

দীর্ঘ ৬৫ দিন পর জেলেরা সাগরে মাছ শিকারে যাবেন। এজন্য মঙ্গলবার সকাল থেকেই নিজেদের আড়ৎ নতুন করে সাজিয়ে নিচ্ছেন মালিকরা। ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলার পাইকারদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন। কোনো কোনো ঘাটে সোমবার বিকেল থেকেই দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা মাছ কেনার জন্য ভিড় জমিয়েছেন।

ভোলার সদর উপজেলার ইলিশা ইউনিয়নের জংশন ঘাট থেকে সাগরে মাছ শিকার করতে যাবেন জেলে মো. মঞ্জু। বলেন, তার ফিশিং বোটে এ ঘাট থেকে সব সময় তিনিসহ মোট ১০ জন সাগরে শিকার করতে যান। গত ৬৫ দিন সাগরে মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা থাকায় বাড়িতে বেকার ছিলেন। ধার-দেনা করে অনেক কষ্টে সংসার চালিয়েছেন। এখন মাছ শিকার করে সেই ধার-দেনা পরিশোধ করবেন।

দৌলতখান উপজেলার ভবানীপুর এলাকার জেলে মো. মোস্তফা জানান, নদীতে সারা বছর অভিযান থাকে। আবার মাছও পাওয়া যায় না। তাই সাগরে মাছ শিকার করেন। সরকার এবারই প্রথম সাগরে মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। তারা তা মেনে সাগরে যায়নি। এখন নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় তারা সাগরে মাছ শিকার করতে যাবেন।

Bhola--2

এদিকে, নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে সাগরে মাছ শিকার করতে গিয়ে গত ৬ জুলাই দুই ট্রলার ডুবির ঘটনায় এখনও আতঙ্ক কাটেনি ভোলার চরফ্যাশন উপকূলের জেলেদের মাঝে। অনেকে সাগরে মাছ শিকার করতে যাচ্ছেন না। কেউ কেউ সাগরের পরিবর্তে নদীতে মাছ শিকার করতে শুরু করেছেন।

উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ফরিদাবাদ গ্রামের কাসেম মাঝি জানান, সাগর এখন উত্তাল, জীবনের অনেক ঝুঁকি আছে। তাই পরিবারের সদস্যরা এখন সাগরে মাছ শিকারের জন্য যেতে দিতে রাজি হয় না। ওই ট্রলার ডুবির ঘটনায় তাদের গ্রামে এখনও আতঙ্ক কাটেনি।

একই গ্রামের মো. ফারুক মাঝি জানান, তাদের গ্রামের ১৪ জেলে ট্রলার ডুবিতে এখনও নিখোঁজ রয়েছে। পরিবারের সদস্যরা প্রতিনিয়তই কান্না করছেন। এতে তাদের পরিবারও এখন সাগরে যেতে দিচ্ছে না। এসব কারণে অনেক জেলে সাগরে যাচ্ছেন না।

অন্যদিকে সাগরে মাছ শিকার করতে গিয়ে দুর্ঘটনা এড়তে ভোলা জেলা প্রশাসন থেকে নেয়া হয়েছে নানা পদক্ষেপ।

জেলা প্রশাসক মো. মাসুদ আলম ছিদ্দিক জানান, সাগরে যেসব জেলে মাছ শিকার করতে যায় আমরা তাদের তালিকা তৈরি করছি। সাগরে যাওয়ার আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের জানিয়ে নিরাপত্তার জন্য তাদের ফাই জ্যাকেট ও বয়া নিয়ে যাওয়া নিশ্চিত করার জন্য জেলা প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. একেএম আজাহারুল ইসলাম জানান, সাগর সব সময় মাছে পূর্ণ থাকে। এখন জেলেরা সাগরে যেয়ে অনেক মাছ শিকার করতে পারবে।

উল্লেখ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে চলতি বছরের ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই রাত ১২টা পর্যন্ত সমুদ্রে মাছ শিকারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

জুয়েল সাহা বিকাশ/এমএমজেড/এমকেএইচ

আপনার মতামত লিখুন :