সড়কের পাশে অবৈধ স্থাপনা, ঝুঁকিতে পথচারীরা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সিরাজগঞ্জ
প্রকাশিত: ১১:০৩ এএম, ৩১ জুলাই ২০১৯

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বাঐতারা মোড় এলাকায় মহাসড়কের জায়গা দখল করে বেশ কয়েকটি অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে। এসব স্থাপনার কারণে বাইপাস রোড থেকে ওঠার সময় মহাসড়কের দক্ষিণ অংশ আড়ালে পড়ে যায়। এতে সবসময় দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২ হাজার শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অন্যদের।

সরেজমিনে সেখানে গিয়ে দেখা যায় ছাতিয়ানতলী মোড়গ্রাম টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজ, এসএম নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ছাতিয়ানতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসী এমন অভিযোগ করেন।

ছাতিয়ানতলী টেকনিক্যাল কলেজের ১ম বর্ষের ইসমাইল, মামুন, নাছিম, জান্নাতুল, ২য় বর্ষের আসমা খাতুন, নবম শ্রেণির বিজলি, রুপা ও মিতুসহ অর্ধ শতাধিক শিক্ষার্থী জানান মুলিবাড়ী-সিরাজগঞ্জ মহাসড়কের বাঐতারা মোড় এলাকায় তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ফটক। সেখান থেকে বাইপাস রোড হয়ে তাদের স্কুল-কলেজে যেতে হয়। বাড়ি থেকে সাইকেল, মোটর সাইকেল কিংবা রিকশাযোগে নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করেন তারা। কিন্তু মহাসড়ক থেকে স্কুল-কলেজে যাওয়ার বাইপাস রাস্তা ঘিরে যেভাবে দোকানপাট গড়ে উঠেছে তাতে যে কোনো সময় দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে।

শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, বাইপাস সড়ক থেকে মহাসড়ক বেশ উঁচু। আর সবসময়ই দ্রুতগতির যানবাহন চলাচল করে এই মহাসড়ক দিয়ে। এ অবস্থায় বাইপাস সড়ক থেকে মহাসড়কে ওঠার সময় অবৈধ স্থাপনার আড়ালে দক্ষিণাংশের যানবাহন চোখে পড়ে না। ফলে প্রতিদিন মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হয় তাদের।

স্থানীয়রা জানান, শুধু স্কুল-কলেজ নয়, ওই বাইপাস দিয়ে শত শত মানুষ প্রতিনিয়ত ছাতিয়ানতলী পুরাতন বাজারে যাতায়াত করেন। অবৈধ স্থাপনার কারণে তাদেরও জীবনের নিরাপত্তা হুমকির মুখে।

sirajgonj

ছাতিয়ানতলী এস এম নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল হামিদ সরকার বলেন, তার বিদ্যালয়ে প্রায় সাড়ে ৪শ শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রতিদিন তারা ওই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করে। মহাসড়ক আড়াল করে বেশ কয়েকটি স্থাপনা নির্মিত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের নিয়ে সবসময়ই চিন্তিত থাকতে হয়। এ বিষয়ে মৌখিকভাবে স্থাপনা সরানোর জন্য অনুরোধ করা হলেও কেউ দোকানপাট সরায়নি।

ছাতিয়ানতলী মোড়গ্রাম টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের প্রভাষক নাজমুল হুদা বলেন, তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় সাড়ে ১১শ শিক্ষার্থীর পাশাপাশি অর্ধ শতাধিক শিক্ষক-কর্মচারীও এমন ঝুঁকি নিয়ে রাস্তায় চলাচল করছেন।

সরকারি জায়গায় স্থাপনা নির্মাণের কথা স্বীকার করে শহিদুল ইসলাম নামে এক দখলদার বলেন, আমি দুটো টিনের ঘর তুলেছি। মাঝখানে একটি গ্যারেজ করা হয়েছে। এসব ঘর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) জায়গায় করা হয়েছে। ফলে এতে কারও যাতায়াতে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম প্রামানিক বলেন, মহাসড়কটি সওজের হলেও জায়গা পাউবোর। ভুক্তভোগী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দিলে পাউবোর সঙ্গে যৌথভাবে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান চালাবে সওজ।

ইউসুফ দেওয়ান রাজু/এমএমজেড/জেআইএম