মিল্ক ভিটার কর্মচারীকে হত্যার পর লাশ গুমের অভিযোগ
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় মিল্ক ভিটার কর্মচারী মামুন হোসেন মাতাব্বরকে (২৬) অপহরণের করে হত্যার পর মরদেহ গুমের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।
বুধবার দুপুরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রামগঞ্জ আমলী আদালতে মামুনের বড় ভাই সুমন মাতাব্বর এ মামলা করেন। মামলায় মিল্কভিটার নিরাপত্তাকর্মী তাজুল ইসলামসহ অজ্ঞাতদের আসামি করা হয়েছে।
বাদীর আইনজীবী মিজানুর রহমান বলেন, আদালতের বিচারক রায়হান চৌধুরী মামলাটি আমলে নিয়েছেন। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য রামগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, মিল্কভিটার রামগঞ্জ উপজেলা কেন্দ্রের ভেতরে নিরাপত্তাকর্মী তাজুল ইসলাম স্থানীয় মাদকসেবীদের নিয়ে বিভিন্ন সময় মাদক সেবন করতেন। কর্মচারী মামুন এতে প্রতিবাদ করলে হত্যার হুমকি দেয়া হয়।
২৬ জুলাই রাত ১০টার পর থেকে মামুনকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। পরদিন নিরাপত্তাকর্মীর ডান পায়ে আটটি সেলাই দেখা যায়। এ সময় মামুনের কথা জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।
তাই আশঙ্কা করা হচ্ছে, তাজুল মাদকসেবীদের সঙ্গে নিয়ে মামুনকে অপহরণের পর হত্যা করেছেন। পরে মরদেহ গুম করে ফেলেন। এ অবস্থায় ভাইকে ফিরে পেতে সুমন আদালতের দারস্থ হয়ে তাজুলের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা করেন।
মামুন রায়পুর উপজেলার চর আবাবিল গ্রামের মাতাব্বর বাড়ির মৃত মহিন উদ্দিন মাতাব্বরের ছেলে। অভিযুক্ত তাজুল রামগঞ্জ পৌরসভার ওভিরামপুর এলাকার মোজাম্মেল হোসেনের ছেলে।
মিল্কভিটা কেন্দ্রের নিরাপত্তাকর্মী তাজুল ইসলাম বলেন, মামুন কোথায় আছে আমার জানা নেই। ২৬ জুলাই রাত ১০টার দিকে আমি অফিস ত্যাগ করার সময় মামুনকে তার কক্ষেই দেখেছি। আমার সঙ্গে তার কোনো বিরোধ নেই।
এ ব্যাপারে রামগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, মামুনকে না পেয়ে ২৮ জুলাই মিল্ক ভিটার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. ফরহাদুল আলম থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। আদালতে মামলা দায়েরের বিষয়টি শুনেছি, এখনো কাগজপত্র হাতে পাইনি। তাকে খুঁজে বের করতে পুলিশি তৎপরতা চলছে।
কাজল কায়েস/এএম/এমএস