শোক দিবসে হামলা, পালিয়ে বেড়াচ্ছেন আ.লীগের শীর্ষ নেতারা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নীলফামারী
প্রকাশিত: ০৭:৩৮ পিএম, ১৭ আগস্ট ২০১৯

গ্রেফতার আতঙ্কে নীলফামারীর জলঢাকার সাবেক এমপি গোলাম মোস্তফা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আনছার আলী মিনটুসহ আ.লীগের শীর্ষ নেতারা। ফলে উপজেলাজুড়ে দলের নেতাকর্মীরা গা-ঢাকা দিয়েছেন।

নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায় জাতীয় শোক দিবসের দিন আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় গতকাল শুক্রবার রাতে পাল্টাপাল্টি মামলায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেফতার করেছে। এ আতঙ্কে দুই পক্ষের আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা গ্রেফতার এড়াতে গা ঢাকা দিয়েছেন

জানা যায়, একটি মামলার বাদী হয়েছেন জলঢাকা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আনসার আলী মিন্টু এবং অপরটির বাদী হয়েছেন সাবেক সাংসদ গোলাম মোস্তফার অনুসারী জলঢাকা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আশরাফ আলী। দুই পক্ষের মামলাতেই উপজেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের আসামি করা হয়েছে।

শুক্রবার রাতে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন, মোস্তাফা গ্রুপের উপজেলার মীরগঞ্জ ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক হেলালুজ্জামান হেলাল, একই ইউনিয়নের যুবলীগ সদস্য হারুন-অর রশিদ রাসেল এবং মিন্টু গ্রুপের বালাগ্রাম ইউনিয়ন ৫নং ওয়ার্ড আ.লীগের সভাপতি ইবনে নুর, ওই ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আ.লীগ সদস্য ইন্দ্রজিৎ রায়।

জলঢাকা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ১৮ নম্বর মামলার বাদী আনসার আলীর এজাহারে ৭০ জন এবং ১৯ নম্বর মামলার বাদী আশরাফ আলীর এজাহারে ৬৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।

তিনি জানান, এছাড়াও পুলিশের ওপর হামলা এবং আক্রমণের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় ২২ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ মামলার বাদী হয়েছেন থানা পুলিশর উপ-পরিদর্শক(এসআই) আব্দুর রশিদ।

এলাকাবাসী জানায়, এখন তিন মামলায় গ্রেফতারের ভয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা ও কর্মীরা সকলে গা-ঢাকা দিয়েছে।

সূত্র জানায়, দশম জাতীয় সংসদে নীলফামারী-০৩ আসনের সাবেক এমপি ও জলঢাকা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি গোলাম মোস্তফার অনুসারী পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আশরাফ আলীর মামলায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আনসার আলী মিন্টু, সাধারণ সম্পাদক সহিদ হোসেন রুবেল, শহর কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ এবং উপজেলা সভাপতি আনসার আলী মিন্টুর মামলায় সাবেক এমপি গোলাম মোস্তফা, শহর কমিটির সভাপতি আশরাফ আলী, সাবেক উপজেলা সভাপতি আব্দুল মান্নান, জলঢাকা পৌরসভার সাবেক মেয়র ইলিয়াস হোসেন উল্লেখযোগ্যদের তালিকায় রয়েছেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নীলফামারী সার্কেল) রুহুল আমিন বলেন, শুক্রবার রাতে অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, জাতীয় শোক দিবসে জলঢাকা শহরের বঙ্গবন্ধু চত্বরে উপজেলা আওয়ামী লীগের বিবাদমান দুই পক্ষের সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে সাবেক এমপিসহ ২২ জন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে ১৩ রাউন্ড করে মোট ২৬ রাউন্ড টিয়ার সেল ও রাবাব বুলেট নিক্ষেপ করতে হয়।

জাহেদুল ইসলাম/এমএএস/এমএস